Sushanta Ghosh Arrested
Bengal Liberty: রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর থেকেই যেন বদলে গেছে ছবিটা। এতদিন যাঁদের দাপটে এলাকা কাঁপত, রাজনৈতিক ‘সুরক্ষাকবচ’ সরতেই এবার একে একে তাঁরাই পুলিশের জালে। সেই তালিকায় সর্বশেষ নাম কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। কোটি কোটি টাকার তোলাবাজি ও জালিয়াতির অভিযোগে বুধবার ওড়িশার পুরী থেকে তাঁকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখা।

কীভাবে ধরা পড়লেন ‘বেতাজ বাদশাহ’? (Sushanta Ghosh Arrested)
কসবা ও আনন্দপুর এলাকায় ফুটপাতে দোকান বরাদ্দের নামে প্রায় ৩ কোটি টাকা তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছিল সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, হকারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে জাল নথি ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতেই গা ঢাকা দেন একসময়ের এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা। পুলিশি তল্লাশির মুখে পড়ে পরিবারসহ পুরীতে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। অবশেষে তাঁর ব্যক্তিগত চালক ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী ‘বচ্চন’-কে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুরীর একটি হোটেল থেকে তাঁকে পাকড়াও করেন গোয়েন্দারা।

বদলাচ্ছে সমীকরণ (Sushanta Ghosh Arrested)
রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সুরক্ষাকবচ’ বা রাজনৈতিক ছত্রছায়া যে মুহূর্তে সরেছে, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয়েছে একের পর এক নেতা-কর্মীর পতন। এতদিন যাঁরা প্রশাসনিক মদতে বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবাধে তোলাবাজি ও দুর্নীতির রাজত্ব চালিয়েছেন, আজ যেন তাঁরাই পুলিশের মোক্ষম টার্গেট। সুশান্ত ঘোষের গ্রেফতারির পর এই নিয়ে কলকাতা পুরসভারই ১০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হলো।

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে (Sushanta Ghosh Arrested)
একসময় কসবা ও আনন্দপুর এলাকায় সুশান্ত ঘোষের নির্দেশ ছাড়া একটি ইঁটও সরত না। সেই দাপুটে নেতার আজ এই পরিণতি দেখে স্থানীয় মানুষের একাংশ বলছেন, “দিন বদলেছে।” একদিকে যখন শাসক দলের নেতা-কর্মীদের একাংশ ভয়ে রাজ্য ছাড়ছেন বা আত্মগোপন করছেন, অন্যদিকে পুলিশি অভিযানে একের পর এক গ্রেফতারিতে স্পষ্ট—রাজনৈতিক ছাতা সরে যেতেই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে অশুভ আঁতাতের ভিত।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, সুশান্ত ঘোষকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হচ্ছে। তাঁকে জেরা করে এই তোলাবাজি চক্রের মূল শিকড় ও এর সঙ্গে যুক্ত বাকি রাঘব-বোয়ালদের নামও উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা


