CM Suvendu Adhikari
Bengal Liberty: প্রধানমন্ত্রীও ব্ল্যাকমেলের স্বীকার হতেন! এনডিএ জোটের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না-থাকায় বিল পাশ করাতে বার-বার বাধার সম্মুখীন হচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেক্ষেত্রে ভারতীয় রাজনীতিতে বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রীর ‘চাণক্য’-র ভূমিকা পালন করলেন (CM Suvendu Adhikari)।
একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলকে আড়াআড়িভাবে বিভক্ত করে বিধানসভায় বিরোধী শিবিরকে ধরাশায়ী করেছেন। অপরদিকে, ঠান্ডা মাথায় লোকসভায় ‘অপারেশন লোটাস’ চালিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন অমিত শাহর আদর্শ ছাত্র তিনি। শরিকি দলের একরকম ব্ল্যাকমেল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মুক্তি দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের এনডিএ-র পক্ষে এনে শুভেন্দু আজ মোদি-শাহের সবচেয়ে আস্থাভাজন ও জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হয়েছেন।

দিল্লির দরবারে শুভেন্দুর ‘অপারেশন লোটাস’ (CM Suvendu Adhikari)
লোকসভা নির্বাচনে ২৪০টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে TDP ও JDU-এর মতো শরিকদের ওপর নির্ভরশীল হতে হ’ত বিজেপি সরকারকে। বারবার শরিকি চাপের মুখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসে বাধা পাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তৃণমূলের বিরোধিতার জন্য মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হয়নি।
এই সংকটের মুহূর্তে-ই ত্রাতা হয়ে উঠলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সুনিপুণ ‘অপারেশন পদ্ম’-র জেরে লোকসভায় তৃণমূলের প্রায় ২২ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ এনডিএ সমর্থিত ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টি অফ ইন্ডিয়া’র (NCPI) সঙ্গে মিশে গিয়েছেন। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে এককালীন অপছন্দের সাংসদ যেমন, সায়নী ঘোষ, শতাব্দী রায়দের সঙ্গেও তিনি দিল্লিতে বৈঠক করেছেন। শিবসেনা এবং এলজেপি-র পাশাপাশি এই নতুন সমর্থন পাওয়ায় শরিকদের তোষণ না-করেই মোদি সরকার এখন সংসদে অনেক বেশি শক্তিশালী।

শুভেন্দুর সুনিপুণ চাল (CM Suvendu Adhikari)
জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি বঙ্গ রাজনীতিতেও শুভেন্দু অধিকারীর মাস্টারস্ট্রোক রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তাঁর সুকৌশলী চালে রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস আজ দু’টুকরো। মমতা লবির তৃণমূলকে সম্পূর্ণ কোণঠাসা করে আত্মপ্রকাশ করেছে বিক্ষুব্ধদের নিয়ে গড়া ঋতব্রতর ‘নব তৃণমূল কংগ্রেস’।
গত এক মাসে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদেরও রীতিমতো চমকে দিয়েছে। যে কারণে অমিত শাহের চোখের মণি এবার প্রধানমন্ত্রীরও আস্থাভাজন হয়ে উঠলেন। এই প্রমাণ অবশ্য আগামী যোগ দিবসের দিনই স্পষ্ট হবে। আসন্ন যোগ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য সফরে বডি ল্যাঙ্গুয়েজেই প্রমাণ হয়ে যাবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে শুভেন্দুর গুরুত্ব ঠিক কতটা।

এ-কথা আজ অনস্বীকার্য যে, বঙ্গ রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপির এক অঘোষিত ‘চাণক্য’ হয়ে উঠেছেন। তাঁর এই রাজনৈতিক মাস্টারস্ট্রোকে জোড়া ধাক্কা খেয়েছে বিরোধীরা। একদিকে বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্য তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে, অন্যদিকে লোকসভায় তৃণমূলের ২২ জন সাংসদকে এনডিএ-র পক্ষে এনে টিডিপি বা জেডিইউ-এর মতো শরিকি দলের ব্ল্যাকমেলের হাত থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কার্যত মুক্তি দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই শুভেন্দু প্রমাণ করেছেন, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে তিনি কতটা আপসহীন এবং কেন মোদি-শাহের সবচেয়ে আস্থাভাজন।


