West bengal Day
Bengal liberty:
পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি (West bengal Day)। এদিন তিনি বাংলার গৌরবময় ইতিহাস, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আধুনিক ভারত গঠনে বাংলার অনন্য অবদানের কথা স্মরণ করেন। একইসঙ্গে দেশভাগের বেদনাদায়ক স্মৃতিকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিজেপি সরকার ২০ জুনকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেই উপলক্ষ্যে দেওয়া বার্তায় রাজ্যপাল বলেন, বাংলা বরাবরই সাহিত্য, সংগীত, শিল্পকলা, শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। বঙ্গীয় নবজাগরণ শুধু বাংলাকেই নয়, সমগ্র ভারতীয় সমাজকে নতুন চিন্তা ও সংস্কারের দিশা দেখিয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষ্যে রাজ্যপালের বার্তা
রাজ্যপাল বাংলার মনীষীদের অবদান স্মরণ করে বলেন, রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সমাজ সংস্কার ও শিক্ষার প্রসারে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’ স্বাধীনতা সংগ্রামে নতুন উদ্দীপনা জুগিয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জাতীয় সঙ্গীত রচনার মাধ্যমে দেশকে একসূত্রে বেঁধেছেন এবং স্বামী বিবেকানন্দ ভারতীয় আত্মবিশ্বাস ও আত্মপরিচয়ের নতুন জাগরণ ঘটিয়েছিলেন।
বিজ্ঞানচর্চায় বাংলার অবদানের কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ও আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের মতো বিজ্ঞানীরা আধুনিক ভারতের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সাহস, আত্মত্যাগ এবং দেশপ্রেমের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

নেতাজি ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান
নিজের বক্তব্যে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জাতীয় ঐক্য ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি গঠনে অবদানের উল্লেখ করেন রাজ্যপাল। একইসঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস দেশভাগের বেদনাদায়ক ইতিহাসকেও স্মরণ করিয়ে দেয়। দেশভাগের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন এবং তাদের জীবনে নেমে এসেছিল চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তা।
সামাজিক সম্প্রীতি, জাতীয় সংহতি এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার উপর জোর দিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবি বলেন, বিভাজন ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশভাগের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বার্তার শেষাংশে বাংলার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রাজ্যপাল বলেন, সৃজনশীলতা, প্রতিভা ও কর্মশক্তির জোরে বাংলা নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে সক্ষম। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে বাংলাকে আবারও নেতৃত্বের ভূমিকায় দেখতে চান তিনি। যুবসমাজ, কৃষক, শ্রমিক, উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলা গড়ে তোলার আহ্বান জানান রাজ্যপাল।


