Taratala building collapse
Bengal Liberty
নির্মাণ কাজ এখনও শেষ হয়নি প্রায় ২০ হাজার বর্গফুটের এই গুদামের(Taratala news)। তবে লোহার বিমের তৈরি কাঠামোর ওপর প্রায় তিন ইঞ্চি পুরু কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে ছাদ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সেই ছাদই বুধবার দুপুর ১২টা ০৭ মিনিটে আচমকা লোহার কাঠামো শুদ্ধ ভেঙে পড়ে। তখন সেই ছাদের তলায় কাজ করছিলেন প্রায় ৪০ জন শ্রমিক।
ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে দমকল থেকে শুরু করে পুরসভার আধিকারিকরা একাধিক সম্ভবনার কথা বলছেন। এক, নির্মাণ সামগ্রীর মান কি খারাপ ছিল? আরও একটি সম্ভবনার কথা অনেকে বলছেন, বৃষ্টির কারণে মাটি বসে গিয়ে কি দুর্ঘটনা?

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী
ঘটনাস্থল ঘুরে এসে মুখ্যমন্ত্রী কাঠগড়়ায় তুলেছেন আগের জমানার পুরসভাকে। তাঁর দাবি, পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা প্রাথমিক ভাবে তাঁকে জানিয়েছেন, গুদামের নকশায় ত্রুটি ছিল। তাই ভার বহন করতে না পেরে ভেঙে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘আমি ইঞ্জিনিয়র নই। তবে ঘটনাস্থল দেখে আমার মনে হয়েছে, বৃষ্টিতে মাটি বসে এই দুর্ঘটনা নয়। তাহলে লোহার বিম এই ভাবে বেঁকে যেত না। লোহার কাঠামোর নাট খুলে স্লিপ করে বেরিয়ে গিয়েছে।’ পুরসভা সূত্রে খবর, জমিটা বন্দরের। কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসের ১ তরিখ থেকে বেহরা ব্রাদার্স নামে একটি সংস্থাকে ৩০ বছরের জন্য লিজ় দেয় জমিটি। নিয়ম অনুসারে সেই জমিতে লিজ হোল্ডার কোনও নির্মাণ করতে গেলে কলকাতা বন্দরের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট লাগে। সূত্রেরখবর নির্মাণ নিয়ে কোনও আপত্তি করেনি বন্দর।
এর পরের ধাপ পুরসভার। ওই জমিতে কাঠামো তৈরি করতে গেলে সেই কাঠামোর নকশা অনুমোদন করাতে হবে কলকাতা পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দিয়ে। সূত্রের খবর, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ সালে নকশার অনুমোদন দেয় পুরসভা।

সেখানেই প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুসারে নকশায় ত্রুটি। তাহলে ত্রুটিপূর্ণ নকশা কী ভাবে অনুমোদন পেল । সেটা কি কোনও নির্দিষ্ট আধিকরিকের ত্রুটি না পিছনে আছে কোনও বৃহত্তর চক্র? বেহরা ব্রাদার্সের এই নির্মান নিয়ে দুর্ঘটনা ঘটার আগে মে মাসেই প্রশ্ন তুলেছিল বাম শ্রমিক সংগঠন। তাঁরা কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষকে এই নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল? এই নির্মাণ যথার্থ নিয়ম মেনে হচ্ছিল কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল। শুধু তাই নয়, এই নির্মাণের ঠিকাদার আসগরকে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল বাম শ্রমিক সংগঠন। কারণ আসগর নিজেই বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, আসগর ওই এলাকার পরিচিত ঠিকাদার। স্থানীয় কাউ্ন্সিলরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা সূত্রে এই এলাকায় প্রায় একচেটিয়া তার ঠিকাদারির। এই টুকরো টুকরো তথ্য একজায়গায় করলে আরও একটি সম্ভবনা জোরাল হয়। তাহলে কি ত্রুটিপূর্ণ নকশার পুরসভা থেকে অনুমোদন পাওয়া থেকে শুরু করে আসগরের বরাত পাওয়া সবটাই একই সুতোয় বাঁধা? বিগত সরকারের আমলে যে সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগ বার বার নির্বাচনের আগে এবং পরে উঠে এসেছে বিজেপি নেতাদের কথায়, সেই সিন্ডিকেট রাজের কারণেই কি এত বড় দুর্ঘটনা? কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই এফআইআর করে তদন্ত শুরু করেছে। ডেকে পাঠানো হয়েছে বেহরা ব্রাদার্সের প্রতিনিধিকে। সঙ্গে ঠিকাদারেরও খোঁজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন রাতের মধ্যেই তাঁর হাতে চলে আসবে পুরসভার রিপোর্ট। বিধানসভায় তিনি জানাবেন কী পদক্ষেপ করা হবে।
আরও পড়ুন: চার বছর পর গণহত্যায় অভিযুক্তকে পাকড়াও করল সিবিআই


