Kolkata TV
Bengal Liberty:
বুধবার থেকে সম্প্রচার বন্ধ হয়ে গেল পরিচিত সংবাদমাধ্যম কলকাতা টিভি (Kolkata TV)। দীর্ঘদিন ধরে চ্যানেলটির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ কৌস্তভ রায়। চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সাংবাদিক, ভিডিও সাংবাদিক, প্রযুক্তিগত কর্মী-সহ বহু কর্মচারী কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা।

কলকাতা টিভির সম্প্রচার বন্ধ হওয়ার ফলে একাধিক কর্মী কার্যত কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আর্থিক সংকটে পড়েছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। এর জেরে কিছু প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছে। কয়েক মাস আগেই সম্প্রচার বন্ধ হয়েছে NE বাংলা। সেই সময়ও বহু সাংবাদিক ও অন্যান্য কর্মী চাকরি হারান। সংবাদমাধ্যমের একাংশের কর্মীদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে বেতন বকেয়া রয়েছে। কোথাও কোথাও প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) জমা না পড়ার অভিযোগও উঠেছে। অনেক কর্মী দীর্ঘদিন পূর্ণ বেতন ছাড়াই কাজ করেছেন বলেও জানা গিয়েছে।
সাংবাদিকদের নিয়ে সরব বিরোধী দলনেতা
বিধানসভায় এ প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা বলেন, “কলকাতা টিভি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে বহু নিরপরাধ সংবাদমাধ্যম কর্মী কাজ হারিয়েছেন। তাঁদের ভবিষ্যৎ ও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন।” তিনি নাম না করেই কয়েকজন সংবাদমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কটাক্ষ করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অতীতে বিভিন্ন আর্থিক উৎসের সহায়তায় বহু সংবাদমাধ্যম চলেছে। সেই আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে গেলে কোনও প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব সংকটে পড়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
রাজ্যের বিভিন্ন পেশার কর্মীদের নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হলেও সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যম কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তার প্রসঙ্গ বিধানসভায় এভাবে উত্থাপিত হওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এখন এই বিষয়ে রাজ্য সরকার কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।


