Naushad Siddiqui
Bengal Liberty : পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে তৃতীয় লিঙ্গের ঠাঁই হয়নি! ঠিক যে ভাবে কোরানে ঠাঁই নেই তৃতীয় লিঙ্গের (Naushad Siddiqui)। ইতিমধ্যেই বিজেপি সরকার পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেছেন। নজরকাড়া এই বাজেটে সবকিছু রঙিন হলেও সাদা- কালো থেকে গেছে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা। এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করার পেছনে মুসলিম মৌলবাদ, উগ্রপন্থী মতাদর্শ এবং কট্টর সামাজিক অনুশাসন ভীষণ ভাবে দায়ী বলে জানা গিয়েছে। এই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁদের অনেক সময় ‘পাপী’ তকমা দিয়ে পরিবার ও সমাজ থেকে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার উদাহরণ দেখা গিয়েছে। বহু ক্ষেত্রে মৌলবাদী উগ্রতা তাঁদের সাধারণ জীবনযাপনের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্যাতন করেছে। সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিয়েছে। অবশেষে সংকীর্ণতার শিকল খুলে একজন পীরজাদা পরিবারের সদস্য হয়ে হাউজের অন্দরে তৃতীয় লিঙ্গের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেন নওশাদ। রাজ্য বাজেটে আগামী দিনে যাতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরাও জায়গা পান তার অনুরোধ করেছেন বিধায়ক (Naushad Siddiqui)।

বাজেট প্রসঙ্গে আর কী কী বললেন নওশাদ? (Naushad Siddiqui)
রাজ্যের বিজেপি সরকারের পেশ করা পূর্ণাঙ্গ বাজেটের উপর আলোচনায় এসএফআইয়ের একমাত্র বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাজেটে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য কোনও নির্দিষ্ট উল্লেখ নেই। ভবিষ্যতে তাঁদের জন্য পৃথক বরাদ্দ ও কল্যাণমূলক প্রকল্পের ব্যবস্থা করার জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান। এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন দফতরে কর্মরত অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের চাকরির সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন তিনি। পাশাপশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলায় যাঁরা অন্যায়ভাবে জেল খেটেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।

নওশাদের অভিযোগ, রাজ্যে দুর্নীতি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া যেন অযথা জটিল না করা হয়, সে বিষয়েও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। তফসিলি জাতি (SC) ও তফসিলি জনজাতি (ST) সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আরও হোস্টেল নির্মাণের দাবি জানান বিধায়ক। পাশাপাশি, ভুয়ো SC ও ST শংসাপত্রের অভিযোগ তুলে সেগুলি খতিয়ে দেখতে একটি কমিশন গঠনেরও প্রস্তাব দেন তিনি। সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রসঙ্গে নওশাদের বক্তব্য, বাজেটে সংখ্যালঘুদের জন্য ঘোষিত বরাদ্দ আসলেই পর্যাপ্ত নয়। তিনি দাবি করেন, সংখ্যালঘুদের জন্য ঘোষিত প্রায় ২,১০০ কোটি টাকার বরাদ্দের যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।



