Bengal Liberty : বারুইপুরের ১২ বছরের নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন প্রশ্ন (Baruipur)। যে পুকুর থেকে রবিবার উদ্ধার হয়েছিল নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ, সোমবার সেই একই পুকুর থেকে উদ্ধার হল এক ব্যক্তির মৃতদেহ। মৃত ব্যক্তির নাম কৃষ্ণকান্ত হালদার। গত শুক্রবার থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। একই জায়গা থেকে পরপর দুই দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। কৃষ্ণকান্তের মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, নাকি নাবালিকা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনও যোগ রয়েছে, এই সমস্ত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ (Baruipur)।

একই পুকুরে দ্বিতীয় দেহ (Baruipur)
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার কিশোরীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে ওই পুকুরে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। সেই সময় বিকেলে উদ্ধার হয় কৃষ্ণকান্ত হালদারের দেহ। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।স্থানীয়দের দাবি, গত শুক্রবার থেকেই কৃষ্ণকান্ত নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল কি না, তিনি কী কাজ করতেন, শেষবার কোথায় দেখা গিয়েছিল এবং কীভাবে ওই পুকুরে পৌঁছলেন, এই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। পাশাপাশি নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুনের তদন্তের সঙ্গে এই মৃত্যুর কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তাও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, রবিবার স্থানীয় কয়েকজন যুবক এক প্রত্যক্ষদর্শীকে সঙ্গে নিয়ে ওই পুকুর থেকেই ১২ বছরের নাবালিকার দেহ উদ্ধার করেন। পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে গণধর্ষণের পর খুন করে বস্তাবন্দি অবস্থায় পুকুরে পুঁতে রাখা হয়েছিল।
https://bengalliberty.com/2026/07/06/cm-suvendu-adhikari-65/
আরও খবর
গণধর্ষণের মামলায় তিন অভিযুক্ত গ্রেফতার (Baruipur)
কিশোরীর দেহ উদ্ধারের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে সোমবার গণধর্ষণের মামলা রুজু করে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে সোমবার বারুইপুর আদালতে পেশ করা হলে আদালত ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। আগামী ২০ জুলাই তাঁদের ফের আদালতে তোলা হবে। ধৃত তৃতীয় অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করানো হবে। রবিবার কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই বারুইপুরে উত্তেজনা চরমে ওঠে। অভিযুক্ত সন্দেহে এক ব্যক্তির গণপ্রহারে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। শিয়ালদহ-নামখানা শাখায় প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে এবং দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকে সড়ক যোগাযোগ।
এদিকে কিশোরীর বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার তাঁকে ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। একই দিনে মুখ্যমন্ত্রীর বারুইপুর সফরেরও কথা রয়েছে। তবে তদন্তকারীদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, একই পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়া কৃষ্ণকান্ত হালদারের মৃত্যু কি শুধুই কাকতালীয়, নাকি বারুইপুর কাণ্ডের জটিল রহস্যের সঙ্গে তারও কোনও অজানা যোগ রয়েছে? সেই উত্তর খুঁজতেই তদন্তে জোর দিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/07/06/baruipur-case-8/


