Bengal Liberty: ৪ বছরের এক ধর্ষিতা ও মৃতপ্রায় শিশুকন্যাকে চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করার ঘটনায় একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও এক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনাকে ‘নির্মম’ বলে অভিহিত করেছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ (Supreme Court)
গাজিয়াবাদের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি চিকিৎসকের প্রতি তীব্র ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, “যদি দায়িত্বই পালন করতে না পারেন, তবে নামের আগে ‘ডাক্তার’ লেখার কোনো অধিকার আপনাদের নেই! যদি আপনার মধ্যে সামান্য সহানুভূতি থাকত, তবে পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকলেও আপনি নিজে শিশুটিকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতেন।” আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, শিশুটির দরিদ্র পরিবার সম্ভবত চিকিৎসা খরচ বহন করতে পারবে না বলেই তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অমানবিক।
কী ঘটেছিল? (Supreme Court)
অভিযোগ, গত ১৬ মার্চ গাজিয়াবাদে ৪ বছরের ওই শিশুকে চকোলেট দেওয়ার নাম করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। শিশুটিকে রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধারের পর দুটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, দুটি হাসপাতালই তাকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে। শেষপর্যন্ত তাকে গাজিয়াবাদ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

ক্ষতিপূরণের নির্দেশ (Supreme Court)
আদালত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেছে, “আমরা যদি জরিমানা আরোপ করি, তবে তা এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পরিবারের প্রতি আপনাদের এই নিষ্ঠুর আচরণের জন্য স্বেচ্ছায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ভাবুন।” হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। অন্যথায়, পরবর্তী শুনানির দিন আদালত নিজেরাই জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় আগেই সিট (SIT) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

