যান চলাচলে কড়া বিধিনিষেধ
Bengal Liberty
রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এই প্রথম একুশে জুলাই উদযাপন করা হচ্ছে (21 July)। ফলে এবার কলকাতার বুকে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন ছবি। শহরের কেন্দ্রস্থলে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে তিনটি পৃথক রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই দিনে পৃথক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট-তৃণমূল, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং প্রদেশ কংগ্রেস। এর ফলে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজটের তীব্র সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সতর্ক নজরদারি রাখছে কলকাতা পুলিশ।

একই দিনে কলকাতায় তিনটি সভা 21 July
প্রতি বছর ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে তৃণমূলের শহীদ দিবসের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও, বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর এবার সেখানে সভার অনুমতি মেলেনি। এর পাশাপাশি বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণও।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এ বছর কালীঘাট-তৃণমূলের শহীদ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে। এই কর্মসূচির জন্য ক্যাথিড্রাল রোডের একটি অংশে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। তবে পশ্চিম দিকের রাস্তাটি উত্তর থেকে দক্ষিণমুখী যানবাহনের জন্য খোলা রাখা হবে। তা সত্ত্বেও ক্যাথিড্রাল রোড ও কুইন্সওয়ের সংযোগস্থলে যানজটের আশঙ্কা থাকছে।

অন্যদিকে, মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে পৃথক কর্মসূচি পালন করছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। সে কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী মেয়ো রোডের একটি অংশে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রেখে বিকল্প পথে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এছাড়া ডাফরিন রোড ও রেড রোড সংলগ্ন এলাকাতেও সমর্থকদের ভিড়ের কারণে গাড়ি চলাচলের গতি মন্থর হতে পারে। অন্যদিকে শহীদ মিনারে প্রদেশ কংগ্রেসের সভা থাকলেও, সেটিকে কেন্দ্র করে ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না বলেই মনে করছে পুলিশ।

যান চলাচলে কড়া বিধিনিষেধ কলকাতা পুলিশ
মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পণ্যবাহী যান চলাচলে বিধিনিষেধ থাকবে। তবে এলপিজি, সিএনজি, পেট্রোলিয়াম, তেল, অক্সিজেন, ওষুধ, সবজি, ফল, মাছ ও দুধ বহনকারী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।

কলকাতা পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিউ রোড, ডাফরিন রোড, হাসপাতাল রোড, কুইন্সওয়ে, চৌরঙ্গি রোড এবং জওহরলাল নেহরু রোডে এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি ২১ জুলাই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সংলগ্ন এলাকা, এজেসি বোস রোডের একাংশ, ক্যাথেড্রাল রোড, হাসপাতাল রোড, কুইন্সওয়ে, ক্যাসুয়ারিনা অ্যাভিনিউ ও লাভার্স লেনে কোনও ধরনের যানবাহন পার্কিংয়ের অনুমতি থাকবে না। এছাড়াও প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ শহরের বিভিন্ন আর্টেরিয়াল ও ফিডার রোডে যান চলাচল ঘুরিয়ে দিতে পারে। সকাল ১০টা থেকে এসপ্ল্যানেড, ডোরিনা ক্রসিং, সিআর অ্যাভিনিউ, জওহরলাল নেহরু রোড, চৌরঙ্গি, এজেসি বোস রোড, হাওড়া ব্রিজ, এমজি রোড, স্ট্র্যান্ড রোড, রবীন্দ্র সরণি, ডাফরিন রোড, কুইন্সওয়ে, হরিশ মুখার্জি রোড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজটের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো শহর অচল হয়ে পড়বে না; তবে মধ্য কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় ধীরগতির হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে ‘ট্রাফিক ডাইভারশন’ বা বিকল্প পথ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হবে। তিনটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সুরক্ষার দায়িত্বে মোতায়েন থাকছেন প্রায় ১,০০০ জন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। সেন্ট্রাল ও সাউথ ডিভিশনের দায়িত্বে থাকবেন অন্তত পাঁচজন ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিক। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)। পাশাপাশি, সমগ্র পরিস্থিতির ওপর আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হবে।

