Agnimitra Paul
Bengal Liberty : পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করলেন রাজ্যের নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার, প্রতিটি বাড়িতে কিউআর কোড, জিপিএস-নজরদারি, অভিযোগ জানানোর মোবাইল অ্যাপ, সব মিলিয়ে স্বচ্ছ ভারত মিশনকে আরও ফলাফলভিত্তিক করার রূপরেখা বিধানসভায় তুলে ধরলেন তিনি। একই সঙ্গে এক বছরের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত পুরোনো বর্জ্য সরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন মন্ত্রী (Agnimitra Paul)।

প্রতিটি বাড়িতে কিউআর কোড (Agnimitra Paul)
স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় এবার কার্যক্রম নয়, গুরুত্ব দেওয়া হবে ফলাফলের উপর। অর্থাৎ শহর কতটা বাস্তবে পরিষ্কার থাকছে, সেটাই হবে মূল লক্ষ্য। অগ্নিমিত্রা পালের দাবি, প্রতিটি বাড়ি থেকেই বর্জ্য আলাদা করে দিতে হবে। নিয়ম না মানলে জরিমানার ব্যবস্থাও থাকবে। তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যের সমস্ত পুরসভায় কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ চলছে। প্রায় ৭৫ হাজার ‘নির্মল বন্ধু’ এবং ৬ হাজার ‘নির্মল সাথী’ বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ ও জনসচেতনতার কাজ করছেন। এই ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে প্রতিটি পরিবারকে কিউআর কোডের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি বর্জ্য সংগ্রহকারী সব গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকার বসানো হবে। এর ফলে কোন বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ হল, কোথায় গাড়ি গেল এবং বর্জ্য আলাদা করে দেওয়া হয়েছে কি না, সবই নজরে রাখা সম্ভব হবে বলে দাবি মন্ত্রীর।

আসছে ‘স্বচ্ছ’ অ্যাপ (Agnimitra Paul)
ডাম্পিং গ্রাউন্ডে বছরের পর বছর জমে থাকা পুরোনো বর্জ্য শহরের অন্যতম বড় পরিবেশগত সমস্যা বলে উল্লেখ করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, বায়োমাইনিং ও বায়োরেমিডিয়েশন পদ্ধতিতে এই বর্জ্য অপসারণের কাজ আরও দ্রুত এগোবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে টেন্ডার ডাকা হবে এবং এক বছরের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত পুরোনো বর্জ্য সরিয়ে ফেলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে ‘স্বচ্ছ’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপও চালু করা হচ্ছে। যেকোনও নাগরিক রাস্তা বা এলাকায় ময়লা কিংবা জল জমে থাকার ছবি তুলে অ্যাপে আপলোড করতে পারবেন। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্যের সব পুরসভায় এই পরিষেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার ২ ঘন্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট পুরসভার দল গিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে বলে জানান মন্ত্রী।

পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে মন্দির ও বাজারে ব্যবহৃত ফুল থেকে ধূপকাঠি ও আবির তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান অগ্নিমিত্রা পাল। এতে বর্জ্য কমার পাশাপাশি মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কর্মসংস্থান বাড়বে বলে তাঁর দাবি। জলাশয়ের ৫০% কচুরিপানা সংগ্রহ করে কাগজ, কম্পোস্ট ও হস্তশিল্প তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বিভিন্ন বাজার ও পুরসভায় কাপড়ের ব্যাগ ও বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগের ভেন্ডিং মেশিন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্লাস্টিক বোতল জমা দিলে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে ব্যাগ পাওয়া যাবে। সংগৃহীত প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার করে আসবাবপত্র, পেভার ব্লক এবং রাস্তা তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে রাজ্যে একটি কার্যকর সার্কুলার অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার বলে জানান অগ্নিমিত্রা পাল।
আরও পড়ুন :
Hollong Bungalow : ফিনিক্সের মতো মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে হলং বাংলো!

