Bengal Liberty : উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী হলং বাংলো আবার ফিরছে পুরনো রূপে (Hollong Bungalow)। আগুনে ধ্বংস হয়ে যাওয়া এই ঐতিহাসিক বাংলোর পুনর্নির্মাণের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও জানিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ হবে। ৬০-৭০ শতাংশ কাজ শেষের পথে, জানিয়েছেন মন্ত্রী। এবার কাঠের বদলে কংক্রিটের কাঠামোয় তৈরি হচ্ছে বাংলো, তবে ঐতিহ্যের ছাপ অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। একসময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রিয় আবাস ছিল এই হলং বাংলো। অন্যদিকে, বাংলোয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগও উঠেছিল। বাংলো পুড়িয়ে সেখানে বেসরকারি রিসর্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনার তত্ত্বও সামনে এসেছিল। সেই সব বিতর্ক পেরিয়ে অবশেষে নতুন রূপে ফিরতে চলেছে ডুয়ার্সের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই বাংলো (Hollong Bungalow)।

ফিরে দেখা যাক বাংলোর ইতিহাস (Hollong Bungalow)
১৯৬৭ সালে নির্মিত হলং বনবাংলোকে রাজ্য পর্যটনের ‘কোহিনূর’ বলেই মনে করেন অনেকেই। প্রকৃতি, বন্যপ্রাণ এবং নিসর্গের এক অনন্য অভিজ্ঞতার জন্য দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে এই বাংলোর আলাদা আকর্ষণ ছিল। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের অন্দরে তৈরি হয়েছিল হলং বনবাংলোটি। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণের সান্নিধ্যে থাকার অনন্য অভিজ্ঞতার জন্য পর্যটকদের কাছে তা ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। পাশাপশি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর অত্যন্ত পছন্দের একটি নিরিবিলির ঠিকানা ছিল এই বাংলো। সুযোগ পেলেই তিনি পরিবার ও নাতনিদের নিয়ে সেখানে ছুটি কাটাতে যেতেন। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি এই কাঠের বাংলোটিতে একরকম প্রাণ খুঁজে পেতেন।

বাংলো পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় ছিল ষড়যন্ত্রের পোড়া গন্ধ! (Hollong Bungalow)
ঠিক দু’বছর আগের সেই দুঃস্বপ্নের রাত। ২০২৪ সালের ১৮ জুন রাত ৯টার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের হলং বনবাংলো। পরে তদন্তে জানা যায়, আট কামরার এই কাঠের বনবাংলোর তিনতলার ৩ নম্বর ঘরে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গোটা বাংলোকে গ্রাস করে। তবে হলং বাংলো পুড়ে যাওয়ার নেপথ্যে ষড়যন্ত্র ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, বাংলো পুড়িয়ে সেখানে বেসরকারি রিসোর্ট তৈরির থিওরি সামনে আসছিল। আগুনে ধ্বংস হওয়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে পুরনো আদল বজায় রেখে কাঠ দিয়েই বাংলোটি পুনর্নির্মাণের দাবি উঠেছিল। অবশেষে সেই ঐতিহ্য ও আবেগ ফিরিয়ে আনতেই পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহাসিক এই বনবাংলো আবারও পর্যটকদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরও খবর
বনমন্ত্রী বলেন, “কাজ আগের সরকারের আমলে শুরু হয়ে গিয়েছিল। এবার সেই কাজ শেষ হচ্ছে। পরের বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে কাজ শেষ হবে। যাঁরা সেখানে স্টাফ ছিল, তাঁরাই কাজ করবে।”

আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/07/24/kunal-ghosh-23/


