Kunal Ghosh
Bengal Liberty : বিধানসভায় কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস আনলেন পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ (Kunal Ghosh)। এদিন তিনি স্পিকারের কাছে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস জমা দেন। পরে কুণাল ঘোষকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হলে তিনি বলেন, স্পিকারের চেয়ারকে অপমান করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না এবং এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি তাঁরই দলে অর্থাৎ বিরোধী পক্ষে বক্তব্য রাখার দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, বারবার তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় প্রতিকী প্রতিবাদ করেছিলেন। যদিও শঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট করেন, বিরোধী দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা তাদেরই মেটাতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন বিরোধী মুখ্য সচেতক আখেরুজ্জামানের পাঠানো তালিকাই সরকারি মুখ্য সচেতকের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে পৌঁছায় (Kunal Ghosh)।

এদিন বিধানসভায় ঠিক কী বললেন কুণাল? (Kunal Ghosh)
কুণাল ঘোষ বলেন, স্পিকার বা তাঁর চেয়ারকে অসম্মান করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তিনি জানান, বিরোধী শিবিরে বক্তব্য রাখার সুযোগ নিয়ে একটি সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেই বিষয়টি জানাতেই তিনি এবং কালীঘাট তৃণমূলের আরও পাঁচজন বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষকে বিরোধী বিধায়কদের জন্য একটি আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। কুণালের দাবি, মূল সমস্যা ছিল বিধানসভায় বক্তব্য রাখার সুযোগ পাওয়া নিয়ে। তাঁদের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নিয়ম মেনে মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানের কাছে নাম পাঠাতেন। কিন্তু বারবার তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছিল। সেই কারণেই তিনি প্রতীকী প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর এই প্রতিবাদ শুধুমাত্র বিরোধী মুখ্য সচেতকের বিরুদ্ধে ছিল। স্পিকারকে অসম্মান করার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। তাই তাঁর আচরণের ভুল ব্যাখ্যা করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা উচিত নয়।

বৃহস্পতিতে কুণালকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ (Kunal Ghosh)
বৃহস্পতিবার বিধানসভার দ্বিতীয়ার্ধে কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় স্পিকারকে জানান, তিনি কিছু বলতে চান। স্পিকার জানতে চান কোন বিষয়ে? তারপরই শোভনদেব জানান, বুধবারের ঘটনা প্রসঙ্গে অর্থাৎ কুণাল ঘোষকে বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে। তাঁর বক্তব্য শোনা মাত্র স্পিকার অনুমতি খারিজ করে দেন। পাশাপশি বুধবারের ঘটনাকে কলঙ্কিত বলেও আখ্যায়িত করেন। এরপরই আপত্তি জানান কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “আমি ১৯৯০ সাল থেকে বিধানসভায় আসছি। এরকম ঘটনা আগেও ঘটেছে। আপনি ‘কলঙ্কজনক অধ্যায়’ মন্তব্যটি প্রত্যাহার করুন।” কুণালের বক্তব্যের পরই প্রতিবাদে ওয়েলে নেমে আসেন বিজেপি বিধায়করা। শুরু হয় তুমুল হট্টগোল। বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি ও কুণাল ঘোষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা চরমে পৌঁছায়। পরবর্তীতে কুণাল নিজের আসন থেকে উঠে স্পিকারের কাছে পৌঁছে যান।

বুধবার চ্যাংদোলা করে বের করে দেওয়া হয় কুণালকে (Kunal Ghosh)
বুধবার বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জমানের বক্তব্যকে ঘিরে। অভিযোগ, আখরুজ্জমান বক্তব্য রাখতে উঠতেই তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ান বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বারবার প্রশ্ন তোলেন, কেন তাঁকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না এবং কেন তাঁর নাম বক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ শিবিরের প্রভাবে কালীঘাটপন্থী বিধায়কদের বক্তব্য রাখার সুযোগ নিয়মিতভাবে খর্ব করা হচ্ছে। এই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা, যা মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার কুণাল ঘোষকে কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করলে মার্শালরা তাঁকে বের করে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। সেই সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে পড়ে যান কুণাল ঘোষ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং পরে প্রতিবাদ জানিয়ে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়করা ওয়াকআউট করেন।
আরও পড়ুন :
Kunal Ghosh : ধুন্ধুমার বিধানসভায়! স্পিকারকে ‘কলঙ্ক’ তুলে নিতে বললেন কুণাল

