Kunal Ghosh
Bengal Liberty : বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও। বিধানসভায় ফের হুজ্জুতি কুণালের! এদিন বিধানসভার দ্বিতীয়ার্ধে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অধিবেশন (Kunal Ghosh)। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে আগের দিনের ঘটনা নিয়ে বক্তব্য রাখার অনুমতি চান। তবে স্পিকার সেই অনুমতি না দিয়ে ঘটনাকে “কলঙ্কজনক অধ্যায়” বলে মন্তব্য করেন। স্পিকারের এই মন্তব্যের পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কালীঘাট তৃণমূল। তাঁরা প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করেন। ফের হাঙ্গামা শুরু হয় বিধানসভায় (Kunal Ghosh)। নিজের সিট ছেড়ে অধ্যক্ষের সামনে উঠে যান কুণাল।

কুণালকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ (Kunal Ghosh)
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিধানসভার দ্বিতীয়ার্ধে কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় স্পিকারকে জানান, তিনি কিছু বলতে চান। স্পিকার জানতে চান কোন বিষয়ে? তারপরই শোভনদেব জানান, বুধবারের ঘটনা প্রসঙ্গে অর্থাৎ কুণাল ঘোষকে বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে। তাঁর বক্তব্য শোনা মাত্র স্পিকার অনুমতি খারিজ করে দেন। পাশাপশি বুধবারের ঘটনাকে কলঙ্কিত বলেও আখ্যায়িত করেন। এরপরই আপত্তি জানান কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “আমি ১৯৯০ সাল থেকে বিধানসভায় আসছি। এরকম ঘটনা আগেও ঘটেছে। আপনি ‘কলঙ্কজনক অধ্যায়’ মন্তব্যটি প্রত্যাহার করুন।” কুণালের বক্তব্যের পরই প্রতিবাদে ওয়েলে নেমে আসেন বিজেপি বিধায়করা। শুরু হয় তুমুল হট্টগোল। বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি ও কুণাল ঘোষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা চরমে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেন বিধানসভার কর্মীরা এবং দুই পক্ষের বিধায়করাও। দীর্ঘ সময় উত্তেজনা চলার পর শেষ পর্যন্ত স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বুধবার চ্যাংদোলা করে বের করে দেওয়া হয় কুণালকে
বুধবার বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জমানের বক্তব্যকে ঘিরে। অভিযোগ, আখরুজ্জমান বক্তব্য রাখতে উঠতেই তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ান বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বারবার প্রশ্ন তোলেন, কেন তাঁকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না এবং কেন তাঁর নাম বক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ শিবিরের প্রভাবে কালীঘাটপন্থী বিধায়কদের বক্তব্য রাখার সুযোগ নিয়মিতভাবে খর্ব করা হচ্ছে। এই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা, যা মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার কুণাল ঘোষকে কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করলে মার্শালরা তাঁকে বের করে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। সেই সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে পড়ে যান কুণাল ঘোষ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং পরে প্রতিবাদ জানিয়ে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়করা ওয়াকআউট করেন।
আরও পড়ুন :

