Dharmendra Pradhan
Bengal Liberty
২০২৬ এর দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের আগেও বিক্ষোভের সাক্ষী হয়েছিল গোটা দেশ, ১৯৯৭ সালে। ওড়িশার ভুবনেশ্বরে ছাত্র আন্দোলন। ঘটনার প্রেক্ষাপট কিছুটা একই হলেও আলাদা (Dharmendra Pradhan)। ওড়িশা সচিবালয়ের সামনে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় দেড় হাজার পড়ুয়া, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে! তবে সেই আন্দোলনের অন্যতম ছিলেন আজকের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী, তৎকালীন তরুণ ছাত্রনেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রায় তিন দশক পরে পরিস্থিতি যেন সম্পূর্ণ উল্টো। দেশের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে এবার তিনিই প্রশ্নফাঁস বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। নিট-ইউজি ইস্যুতে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব বিরোধী দল এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।

১৯৯৭-এর আন্দোলন থেকে ২০২৬-এর বিতর্ক
তৎকালীন কংগ্রেস সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জানকী বল্লভ পট্টনায়ক। তার বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। সূত্র অনুযায়ী, তৎকালীন সেই সময়ে এবিভিপির জাতীয় সম্পাদক ছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং ছাত্র রাজনীতিতে অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করার সময় ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দু’বার এবিভিপির জাতীয় সম্পাদক হয়েছিলেন তিনি। প্রশ্ন ফাঁসের সেই আন্দোলনই অন্যতম বড় মোড় নেয় ধর্মেন্দ্রর জীবনে।

আজ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আঙুল তুলে যন্তর মন্তরের সামনে মার খাচ্ছে একাধিক ছাত্র। ডক্টর এ পি জে আব্দুল কালামের ভাষায়, ছাত্রই দেশের শক্তি, ভবিষ্যত! ইতিহাসের পাতা উল্টালে প্রায় আঠাশ বছর আগে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ হয়েছিল ছাত্রদের। শুরুতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হলেও পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সেই ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধান গুরুতর আহত হন এবং তাঁর শরীরের কয়েকটি হাড়েও চিড় ধরেছিল। আজকের মত সেইদিনও সে সময় ছাত্র রাজনীতিতে হিংসার পরিবেশ ছিল।
আঠাশ বছরে বদলেছে ভূমিকা Dharmendra Pradhan
ধর্মেন্দ্র প্রধান, ছাত্র রাজনীতি থেকে বিজেপির সংগঠক, তারপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী – এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সফরে পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্রকের মত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর পর ২০২১ সালে শিক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব পান ধর্মেন্দ্র প্রধান। ওড়িশায় বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালে নবীন পট্টনায়কের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবার রাজ্যে সরকার গঠন করে বিজেপি।

বর্তমানে নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে ঘিরে দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন চলছে। উত্তাল গোটা দেশ। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে সহ একাধিক বিরোধী নেতারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, পদত্যাগ ছাড়া এই বিষয়ে নিরপেক্ষ আলোচনা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, তারা সংসদে এই ইস্যুতে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে বাঁধ সেধেছে ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কোনও আপস নয়।

কালের পরিবর্তন ঘটে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটল আবার ২০২৬। আঠাশ বছর আগে যে নেতা প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন, আজ তাকে নিয়েই রাজনীতি উত্তাল। তার পদত্যাগের দাবি চলছে দিকে দিকে। ঘটনাপ্রবাহের এই পরিহাসই এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়।

