Kalyan banerjee durga puja
Bengal Liberty
শ্রীরামপুরের আরএমএস মাঠে ৫ ও ৬ নম্বর পল্লী গোষ্ঠী ব্যবসায়ী সমিতির দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক (Kalyan Banerjee)। দীর্ঘদিন ধরে এই পুজোর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের নাম জড়িয়ে থাকলেও, এ বছর উল্টো রথের দিন খুঁটি পুজোর আয়োজন করলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা।

জানা গিয়েছে, সাংসদ হওয়ার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় সন্তোষ সিং ওরফে পাপ্পু এই পুজোর দায়িত্ব সামলাতেন। পুজো কমিটির সভাপতি ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সম্পাদক ছিলেন সন্তোষ সিং। প্রতি বছর রথযাত্রার দিন ঢাক-কাশরের বাদ্যে খুঁটি পুজোর মাধ্যমে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু হতো। পুজোর বাজেটও প্রায় কোটি টাকায় পৌঁছে যেত। তবে এ বছর রথের দিন খুঁটি পুজো হয়নি, এমনকি পুজো নিয়ে কোনও উদ্যোগও চোখে পড়েনি।

পুজোর রীতিতে বদল Kalyan Banerjee
এরপর শুক্রবার উল্টো রথের দিন আরএমএস মাঠে খুঁটি পুজোর আয়োজন করেন স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা। ঢাক, শঙ্খ ও মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে খুঁটি পুজো সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা অমিতাভ ঘোষ, স্বপন চক্রবর্তী-সহ অন্যান্যরা।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তারা পুজোর দখল নিতে আসেননি। তাদের বক্তব্য, যারা এতদিন পুজোর দায়িত্বে ছিলেন, তাদের কোনও উদ্যোগ দেখা না যাওয়ায় বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী এই পুজো যাতে বন্ধ না হয়ে যায়, সেই উদ্দেশ্যেই তারা এগিয়ে এসেছেন। পাশাপাশি তারা বলেন, আগে সন্ধিপুজোয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরতি করতেন, তবে এ বছর সেই দৃশ্য আর দেখা যাবে না। যে কেউ ভক্তিভরে পুজো করতে চাইলে তাকে স্বাগত জানানো হবে বলেও জানান বিজেপি নেতারা।

অন্যদিকে, পুজো কমিটির প্রাক্তন সম্পাদক সন্তোষ সিং দাবি করেন, পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার জন্য আগামীকাল একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই খুঁটি পুজো হয়ে যায়। তিনি বলেন, “পুজো তৃণমূলের দখলে ছিল না। ব্যবসায়ীরা পুজো বন্ধ করে দেওয়ার পর আমরা দায়িত্ব নিয়ে তা চালিয়ে এসেছি। পুজো সবার, মায়ের কোনও ভাগ হয় না।” তাঁর এই মন্তব্যের পর শ্রীরামপুরের এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে।

