CAG Report
Bengal Liberty
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শনিবার ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ২৮টি নিয়ন্ত্রক ও মহালেখা পরীক্ষক (CAG)-এর রিপোর্ট পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (CAG Report)। সরকারের দাবি, বিগত প্রশাসনের সময় সরকারি অর্থব্যয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে আর্থিক অসঙ্গতি ও অডিট পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে, তা বিধানসভার সামনে তুলে ধরতেই এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “এই রিপোর্টগুলি পড়লেই বোঝা যাবে, কেন রাজ্যের আর্থিক ঘাটতি ৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।”

বিধানসভায় সরব অর্থমন্ত্রী
ক্যাগ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কোভিড-১৯ অতিমারির সময় PM CARES তহবিল ও কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকল্পের অর্থে পশ্চিমবঙ্গে মোট ৭৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছিল। তবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তার মধ্যে মাত্র ৩২টি চালু ছিল। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সহায়তায় পাঠানো অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও ভেন্টিলেটরের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দীর্ঘ সময় ব্যবহৃত হয়নি বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গকে যে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ দিয়েছিল, তার মধ্যে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত ৬৫৯.২৮ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট বরাদ্দের প্রায় ৬৫ শতাংশ, ব্যয় করা হয়নি।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের পাশাপাশি শিল্পোন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়েও ক্যাগ রিপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, নদিয়ার হরিণঘাটায় শিল্পোন্নয়নের উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমকে দেওয়া জমির একটি অংশ ৯৯ বছরের জন্য একটি ই-কমার্স সংস্থাকে লিজ দেওয়া হয়। অডিটে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই লিজের আওতায় জলাজমিও অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নিগমের প্রায় ১৩ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত পরপর চারটি অর্থবর্ষে ক্যাগ রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করা হয়নি। শনিবার পেশ করা ২৮টি রিপোর্টের মধ্যে রাজ্য সরকারের আর্থিক নিরীক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পঞ্চায়েত, ভূমি, শিল্প এবং অন্যান্য দফতরের ব্যয় সংক্রান্ত একাধিক অডিট রিপোর্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই রিপোর্টগুলি নিয়ে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

