Subhankar Sarkar
Bengal Liberty
মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে তৃণমূল থেকে একাধিক নেতা-নেত্রীর কংগ্রেসে যোগদান করছে (Trinamool Congress)। ফলে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর উদ্যোগে ধুলিয়ান পুরসভার চেয়ারম্যান ইনজামামুল ইসলাম, ভাইস-চেয়ারম্যান খায়রুল ইসলাম-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা-নেত্রী গত ২৩ আগস্ট কংগ্রেসে যোগ দেন। কিন্তু যোগদানের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই কর্মসূচিতে কার্যত রাশ টানল কংগ্রেস হাইকমান্ড।

ধুলিয়ানের যোগদান আপাতত স্থগিত Trinamool Congress
সোমবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে চিঠি পাঠিয়ে AICC-র পশ্চিমবঙ্গের ইনচার্জ প্রকাশ জোশী জানিয়ে দেন, অন্য কোনও রাজনৈতিক দল থেকে নেতাকর্মীদের কংগ্রেসে নেওয়ার আগে তাঁদের নামের তালিকা প্রদেশ কংগ্রেসের মাধ্যমে হাইকমান্ডের কাছে পাঠিয়ে অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পরেই আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগদান কার্যকর করা যাবে।
ধুলিয়ানের সাম্প্রতিক যোগদানকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় AICC-র নির্দেশে ওই যোগদান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে কংগ্রেস সূত্রে খবর। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, ধুলিয়ান পুরসভার চেয়ারম্যান ইনজামামুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে আর্থিক অনিয়ম এবং স্থানীয় গোলমালে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে পুরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর অনাস্থা প্রস্তাবও জমা দেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে কংগ্রেসে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্য কংগ্রেসের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি হাইকমান্ডের নজরে আসার পরই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার জেরে একদিকে যেমন অধীর রঞ্জন চৌধুরীর রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বাধীন প্রদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে অধীর শিবিরের দূরত্বও ফের প্রকাশ্যে এসেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলবদল নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে বিতর্ক না তৈরি হয়, সেই লক্ষ্যে রাজ্য কংগ্রেসের তরফে একটি বিশেষ ‘যোগদান কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী দিনে তৃণমূল বা অন্য কোনও দল থেকে কংগ্রেসে যোগদানের ক্ষেত্রে হাইকমান্ডের অনুমোদনই চূড়ান্ত হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

