Narendra Modi AI Summit controversy
Bengal Liberty, Kolkata:
বিশ্বের দরবারে ভারতের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রার প্রদর্শন(Narendra Modi AI Summit controversy),এই আবহেই দিল্লির এআই সামিট ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক। আন্তর্জাতিক অতিথিদের উপস্থিতিতে যুব কংগ্রেসের শার্টবিহীন বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
কী ঘটেছিল AI সামিটে? Narendra Modi AI Summit controversy
গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এআই সম্মেলনের মাঝপথে শুক্রবার দুপুরে আচমকা কয়েকজন যুব কংগ্রেস কর্মী খালি গায়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সমঝোতা দেশের সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের ক্ষতি করবে। সূত্রের খবর অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য।

কী বললেন নরেন্দ্র মোদি?Narendra Modi AI Summit controversy
উত্তরপ্রদেশের মিরাটে নমো ভারত র্যাপিড রেল ও স্থানীয় মেট্রো পরিষেবার সূচনার পর জনসভা থেকে সরাসরি কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বক্তব্য, দেশের অগ্রগতি কিছু রাজনৈতিক শক্তি মেনে নিতে পারছে না।
মোদি বলেন, দিল্লিতে আয়োজিত বৃহৎ এআই সম্মেলনে ৮০-রও বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং প্রায় ২০টি দেশের রাষ্ট্রনেতা উপস্থিত ছিলেন। তিনি জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে দেশ গর্বিত কি না? সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই তিনি দাবি করেন, যখন গোটা দেশ সাফল্য উদ্যাপন করছে, তখন কংগ্রেস নাকি সেই মঞ্চকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের জায়গায় পরিণত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, বিদেশি অতিথিদের সামনে শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘আমি কংগ্রেসের লোকদের জিজ্ঞাসা করছি, দেশ জানে যে আপনারা ইতিমধ্যেই নগ্ন, তাহলে তোমাদের পোশাক খোলার প্রয়োজন কেন মনে হল?’
কড়া পর্যবেক্ষণ আদালতের Narendra Modi AI Summit controversy
সূত্রের খবর অনুযায়ী এআই সম্মেলন চলাকালীন বিক্ষোভের ঘটনায় গ্রেফতার চার যুব কংগ্রেস কর্মীর জামিনের আবেদন খারিজ করেছে দিল্লির Patiala House Court। বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট স্পষ্ট জানান, সংবিধান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে ঠিকই, তবে সেই অধিকার প্রয়োগের সময় জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদার বিষয়টি অগ্রাহ্য করা যায় না।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, যে সময়ে দেশ-বিদেশের বহু প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম মেধা সম্মেলন চলছিল, সেই মুহূর্তে নিরাপত্তা বলয় ভেঙে বিক্ষোভ প্রদর্শন অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ধরনের আচরণ কেবল শৃঙ্খলাভঙ্গই নয়, বরং কূটনৈতিক অস্বস্তির কারণও হতে পারে। ম্যাজিস্ট্রেট আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে যা সামনে এসেছে তাতে অভিযুক্তদের কার্যকলাপ পরিকল্পিত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তদন্ত প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে এবং ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট জানতে পুলিশি হেফাজত জরুরি বলেই মত আদালতের। সেই কারণেই চার অভিযুক্তের জামিনের আর্জি নাকচ করে তাঁদের পাঁচ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত এ-ও ইঙ্গিত দেয়, প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও তা যেন জননিরাপত্তা বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে বিপন্ন না করে এই ভারসাম্য রক্ষা করাই আইনের মূল লক্ষ্য।
রাজনৈতিক কটাক্ষ থেকে আদালতের কড়া বার্তা AI সামিট ঘিরে বিতর্ক এখন রাজনৈতিক সীমা ছাড়িয়ে আইনি পরিসরেও পৌঁছে গেছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, উন্নয়ন ও জাতীয় গৌরবের প্রশ্নে আপস নয় অন্যদিকে জাতীয় স্বার্থ বনাম প্রতিবাদের সীমারেখা এই বিতর্কই এখন কেন্দ্রবিন্দুতে। এখন দেখার, এই ইস্যু সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে কতদূর গড়ায়।

