Form 6 controversy
Bengal Liberty,Kolkata:
ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল ফর্ম–৬ বিতর্ক। সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়া তে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে ইস্যু সামনে আসতেই আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি সতর্ক করলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর স্পষ্ট বার্তা “অনুমানের ভিত্তিতে অভিযোগ করবেন না, সুনির্দিষ্ট তথ্য দিন।” Form 6 controversy

কী নিয়ে বিতর্ক?
রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের দফতরে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ফর্ম–৬ জমা পড়ছে, যা স্বাভাবিক নয়। তিনি বলেন “চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বার হয়েছে। বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি করার কাজ চলছে। এই অবস্থায় বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ছে। কোনও রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করছি না। কিন্তু এখন কেন?
কমিশনের পাল্টা যুক্তি
নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী নাইডু পরিষ্কার জানান, বিধি অনুযায়ী মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত ফর্ম–৬ জমা দেওয়া যায়। এমনকি যাঁদের বয়স সদ্য ১৮ হয়েছে, তাঁরাও আবেদন করতে পারেন। ফলে আইনগতভাবে এই প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা নেই।

আদালতের পর্যবেক্ষণ
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, এ ধরনের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে, তাই সরাসরি অনিয়ম বলা যাবে না। অভিযোগ থাকলে যথাযথ প্রমাণসহ তা পেশ করার নির্দেশ দেন তিনি। একইসঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট করেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে সময়সীমার পরে যুক্ত হওয়া নাম ভোটাধিকার পাবে না—এই সীমারেখাও আদালত তুলে ধরে।
বিরোধী শিবিরের প্রশ্ন
প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল প্রশ্ন তোলেন, হাজার হাজার আবেদন একসঙ্গে জমা পড়লেও আবেদনকারীদের পরিচয় জানার সুযোগ নেই। ফলে স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: তৃণমূলের অবস্থান
তৃণমূল ঘনিষ্ঠ মহল এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখছে। তাদের দাবি, ফর্ম–৬ ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে বহিরাগতদের নাম ভোটার তালিকায় তোলার চেষ্টা চলছে, যা বাংলার জনসংখ্যার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই বুথভিত্তিক আবেদনকারীদের তালিকা প্রকাশের দাবি তুলেছে তৃণমূল।
বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ
তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি সংগঠিতভাবে এই আবেদন প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করছে। যদিও বিজেপি শিবির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক নাটক বলেই দাবি করছে।
মাঠে উত্তেজনা
এই বিতর্ক আদালতের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া-এর রাজ্য দফতরের বাইরে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে এসেছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছে।
তবে পুরো বিতর্কের কেন্দ্রে এখন দুটি বড় প্রশ্ন—বিপুল সংখ্যক ফর্ম–৬ জমা পড়ার পেছনে প্রকৃত কারণ কী?
এবং ভোটার তালিকা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা কতটা বজায় রাখা হচ্ছে?
কী বলছে আদালত?
আদালত আপাতত স্পষ্ট করেছে—আইন মেনে আবেদন হলে তা গ্রহণযোগ্য। তবে কোনও অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণসহ তুলে ধরতে হবে।
সব মিলিয়ে, ফর্ম–৬ ঘিরে এই বিতর্ক এখন শুধুমাত্র আইনি বিষয় নয়, বরং তা রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠছে। আগামী দিনে এই ইস্যু নির্বাচনেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
