Show-Cause Notice About Malda Violence
Bengal Liberty, ২ এপ্রিল :
মালদার কালিয়াচকে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার অভিযোগ ঘিরে বুধবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ রাত গড়াতেই ভয়াবহ রূপ নেয় (Kaliachak protest)। কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক অফিসে বিচারাধীন মামলার শুনানিতে আসা ৭ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ঘিরে ফেলে বিক্ষোভকারীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁরা অবরুদ্ধ হয়ে থাকেন অফিসের ভিতরে। গভীররাতে বিক্ষোভকারীদের ঘেরাও থেকে আধিকারিকদের মুক্ত করতে গিয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। বিচারকদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীদের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় এক ব্যক্তি আহত হন বলে জানা গিয়েছে। অপরদিকে বিচারকদের বের করে আনার সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশ কনভয় লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে, ভেঙে যায় কয়েকটি গাড়ির কাচ। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের সুজাপুর বিধানসভার ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ মুক্ত হয়। তবে এলাকায় টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Kaliachak protest)।

অবরোধে থমকে ছিল কালিয়াচক (Kaliachak protest)
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে একতরফাভাবে হাজার হাজার মুসলিম ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। বহু ক্ষেত্রে কোনও নোটিস বা যথাযথ শুনানি ছাড়াই নাম কেটে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ক্ষোভ থেকেই বুধবার সকাল থেকে কালিয়াচক ও সুজাপুর এলাকায় প্রতিবাদ শুরু হয়। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে, বাঁশ ফেলে অবরোধ করেন স্থানীয়রা। ফলে মালদা-ফরাক্কা রুটে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুল্যান্স এবং ছোট গাড়ি।

বিডিও অফিসে আটকে থাকে ৭ বিচারক (Kaliachak protest)
বুধবার বিকেল সাড়ে ৩ টে থেকে ৪ টের মধ্যে কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক অফিস ঘিরে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মোট ৭ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা বিচারকও ছিলেন। পরিস্থিতির খবর পৌঁছয় নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন এবং কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। রাত ১১টার পর অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। শুরু হয় অবরোধ সরানোর চেষ্টা। অভিযোগ, প্রথমে লাঠিচার্জ করা হয়। এরপর বিচারকদের বের করে আনার সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশ কনভয় লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। ভেঙে যায় কয়েকটি গাড়ির কাচ। অবশেষে রাত প্রায় ১২টা নাগাদ বিচারকদের নিরাপদে সেখান থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়। বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের অবরোধও তুলে দেওয়া হয়। তবে এলাকায় এখনও টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

কমিশনের রিপোর্ট তলব (Kaliachak protest)
ঘটনার পরই রাজ্যের ডিজি-র কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে, ভবিষ্যতে বিচারাধীন ভোটারদের শুনানি কেন্দ্রগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েনের নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।
West Bengal Election 2026: কালিয়াগঞ্জে প্রচারে বিতর্ক, জনসংযোগ করতে গিয়েই প্রকাশ্যে প্রশ্নবাণে তৃণমূল প্রার্থী@bengalliberty @SuvenduWB @BJP4Bengal @MamataOfficial @AITCofficial #bengalliberty #BengalNews #westbengalelection2026 #westbengalpolitics #westbengal #tmc #bjp pic.twitter.com/AfUuQDjrjo
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) April 1, 2026
এদিকে ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন, এসআইআর নিয়ে শাসক দলের নেতাদের ধারাবাহিক উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরেই কালিয়াচকের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “সাত জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে, জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এটা গণতন্ত্র ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উপর সরাসরি আঘাত।”

