Modi Birbhum rally
Bengal Liberty Desk, Kolkata :
বিধানসভা ভোটের আগে বীরভূমের মাটি থেকে শাসকদলকে ঘিরে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি Modi Birbhum rally। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, শিক্ষা সংকট থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে রাখার অভিযোগ সব মিলিয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানাল বিজেপি।

দুর্নীতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুসংগঠিত লুট Modi Birbhum rally
এদিন এই সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বাংলার কয়লা, বালি ও জমি এই তিনটি মূল সম্পদকে কেন্দ্র করে একটি সুসংগঠিত দুর্নীতির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে তৃণমূল। তাঁর দাবি, এই সিন্ডিকেট রাজ শুধুমাত্র সরকারি উৎস কমাচ্ছে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। উন্নয়নের টাকা যেখানে খরচ হওয়ার কথা, তা চলে যাচ্ছে তৃণমূল সরকারের পকেটে এমনই কটাক্ষ শোনা যায় তাঁর গলায়।

‘বোমা শিল্প’ আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি
প্রধানমন্ত্রী সরাসরি শাসকদলকে নিশানা করে তীব্র ভাষায় বলেন, বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এখন বোমা তৈরির ঘটনা এতটাই সাধারণ হয়ে উঠেছে যে তা কার্যত একটি ‘শিল্পে’ রূপ নিয়েছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ছাড়া এ ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ এত বিস্তৃত হতে পারে না। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, বহু এলাকায় নাকি ফ্যাক্টরির আড়ালে বেআইনি ভাবে বোমা তৈরি হচ্ছে। এই অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন কেন এত বড় মাত্রার অপরাধ নজর এড়িয়ে যাচ্ছে?
‘PM’ শব্দ নিয়ে রাজনীতি
সভা থেকে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘PM’ শব্দটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক বিরোধিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে তৃণমূল। তাঁর মতে, ‘PM’ কোনও ব্যক্তির নয়, এটি সংবিধান স্বীকৃত একটি পদ। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের যেসব প্রকল্পে ‘PM’ যুক্ত রয়েছে, সেগুলির সুবিধা বাংলার মানুষকে পেতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক, গরিব, আদিবাসী ও শ্রমজীবী মানুষ।
প্রান্তিক মানুষের বঞ্চনা
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্যের শাসকদল প্রান্তিক মানুষের প্রকৃত উন্নয়নে আগ্রহী নয়। আদিবাসী এলাকা, শ্রমিক শ্রেণি এবং কৃষকদের সমস্যাগুলি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, এই সমস্ত শ্রেণির মানুষের জীবনমান উন্নত করার জন্য কোনও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বিজেপি সরকার এলে এই সমস্ত শ্রেণির মানুষের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এমনটাই বলেন প্রধামন্ত্রী। এমনকি সরাসরি তিনি বলেন “কৃষক, গরিব, আদিবাসী, শ্রমিকদেরও পছন্দ নয় তৃণমূলের।”
৭৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঝুলে
এদিন এই সভায় নরেন্দ্র মোদি দাবি করেন, প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে আটকে রয়েছে। এর ফলে শিল্প, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ সব ক্ষেত্রেই বড় ধাক্কা খাচ্ছে বাংলা।
শিক্ষাক্ষেত্রে সংকট—শিক্ষক নেই, বেতন অনিশ্চিত
এদিন এইসভায় রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। সভা থেকে তিনি বলেন, বহু স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, যার ফলে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মুখে। এছাড়াও পাশাপাশি শিক্ষকদের সময়মতো বেতন না পাওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। এই পরিস্থিতি শিক্ষার মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেন, বর্তমান পরিস্থিতি এইরকম ভাবেই চলতে থাকলে বহু স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সব মিলিয়ে বীরভূমের সভা থেকে নরেন্দ্র মোদি যে বার্তা দিলেন, তা স্পষ্ট বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি বদলাতে হলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন জরুরি। দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নের প্রশ্নেই এবার ভোটের লড়াইকে তীব্র করতে চাইছে বিজেপি।
