Akkhay tritiya 2026
Bengal liberty desk, শর্বরী মুখার্জী :
অক্ষয় অর্থাৎ যার ক্ষয় নেই (Akkhay tritiya 2026)। উৎসব মুখর বাঙালির কাছে অন্যতম পছন্দের দিন হিসেবে পালিত হয় অক্ষয় তৃতীয়া। কারণ মনে করা হয় ,এই বিশেষ তিথিতে যেকোনো শুভ কাজ করলে, তার ফল কখনই ক্ষয় হয় না। বরং দ্বিগুণ সমৃদ্ধি লাভ হয়। হিন্দু পুরাণ মতে, বছরের অন্যতম শুভ দিন হলো অক্ষয় তৃতীয়া। যে কোনো শুভ কাজ শুরু করার জন্য দিনটি অনবদ্য।
পুরাণ মতে তাৎপর্য Akkhay tritiya 2026
এই শুভ মুহূর্তের বহু তাৎপর্য রয়েছে হিন্দু পুরাণে। বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে যে কোনো নতুন কাজের শুভ মুরাত বা সময় হলো এই তৃতীয়া। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, নানাবিধ কাজের সূচনা বা স্থিতিলাভ ঘটেছিল আজ, এই শুভ মুহূর্তেই। জ্যোতিষ মতে, এই দিনে সূর্য ও চন্দ্র উভয়েই উচ্চ অবস্থানে থাকে, ফলে মহাজাগতিক শক্তির এক বিরল সমন্বয় সৃষ্টি হয় যা যেকোনো নতুন উদ্যোগের জন্য অত্যন্ত শুভ।

এই দিন থেকেই পুরীতে রথযাত্রার সূচনা হয় অর্থাৎ রথের নির্মাণের শিলান্যাস ঘটে। আজ সত্য যুগের শেষ হয়ে ত্রেতা যুগের সূচনা হয়েছিল এবং বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার বলরাম জন্ম গ্রহণ করেছিলেন আজ, এই বিশেষ তিথিতে। শিব পুরাণ অনুযায়ী , মা গঙ্গা মর্তে প্রবাহমান হয় এই বিশেষ তৃতীয়ায়। বেদব্যাস ও গণেশ মহাভারত রচনা আরম্ভ করেন। বনবাসে থাকাকালীন পঞ্চপাণ্ডবের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা যুধিষ্টির সূর্যদেবের থেকে অক্ষয় পাত্র লাভ করেছিলেন, যে পাত্র থেকে খাবার কোনোদিন ফুরাবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আজ, এই তৃতীয়া তিথিতে ধন দেবতা কুবের “সম্পদের দেবতা” আখ্যা লাভ করেছিলেন । শুধু তাই নয়, আদি শঙ্করাচার্য এই শুভ সময় মুহূর্তে মা লক্ষীর উপাসনা স্বরূপ “কনকধারা স্তোত্র” রচনা করেন।
২০২৬ সালের অক্ষয় তৃতীয়ার নির্ঘন্ট :
আজ, অক্ষয় তৃতীয়া। ব্যবসার হালখাতা থেকে শুরু করে নতুন বাড়ির গৃহপ্রবেশ সব কিছুর জন্যই অত্যন্ত পবিত্র দিন। পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী , ১৯ এপ্রিল দুপুর ১ টা বেজে ১৩ মিনিট থেকে শুরু করে আজ সকাল ১০ টা ৫১ মিনিট অবধি পর্যন্ত বজায় থাকবে এই তিথি।
আরও পড়ুন – মহিলা বিল ঘিরে মোদির ভাষণকে ‘ভণ্ডামি’ বলে আক্রমণ তৃণমূল সুপ্রিমোর
সোনা ছাড়াও যে পাঁচ জিনিসে আসবে সমৃদ্ধি :
বর্তমান বাজারে আকাশ ছোঁয়া দাম সোনার। তাই সোনা কেনার ক্ষেত্রে স্বভাবতই দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ। ফলে এই পরিস্থিতিতে সোনার বদলে কিনতে পারেন ‘ধনে বীজ ‘। যা কিনে লক্ষী মায়ের চরণে নিবেদন করলে সংসার ভরে ওঠে সমৃদ্ধিতে। এছাড়াও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে কিনতে পারেন মাটির তৈরি সামগ্রী। এমনও মনে করা হয় যে, এদিন এই পাঁচ টি সস্তার জিনিস ঘরে আনলে দূর হয় সংসারের সমস্ত অনটন।

হলুদ সর্ষে যা মা লক্ষীর অত্যন্ত প্রিয়। এলাচ, পাঁচটি এলাচ অবশ্যই রাখুন লকারে। রুপোর লক্ষী গণেশ, যা অক্ষয় তৃতীয়ার দিন অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়। সন্ধক লবণ – ধনতেরাস ছাড়াও এই দিন ঘরে আনুন। আজ, অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ লগ্নে, মাত্র এই পাঁচটি জিনিস কিনলে ঘরের নেতিবাচক প্রভাব দূর হবে। তবে, জিনিস কেনার সাথে দান ধ্যানের মাধ্যমেও আশীর্বাদ প্রাপ্ত করা যায়।
তবে জাঁকজমক আড়ম্বরপূর্ণ পুজো করা সবার সাধ্য থাকে না। শুভ লগ্নে আপনার ঘরের লক্ষী গণেশের আরাধনাই বাড়িতে সুখ শান্তি বয়ে আনবে।
সফলতার কিছু ঘরোয়া টোটকা
খুব বেশি কিছু নয়, ছোট ছোট কিছু উপাচারের মাধ্যমেই ঘরে শান্তি, ইতিবাচক পরিবেশ তৈরী করা সম্ভব। অবশ্যই সকালে স্নান করে সূর্য প্রণাম করুন, তামার ঘটে সূর্যদেবকে জল উৎসর্গ করুন। হলুদ বা সাদা বস্ত্র পরিধান করুন। ঘর গুছিয়ে রাখুন, জামা কাপড়, আলমারি পরিষ্কার রাখুন। অপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন ভাঙ্গা আয়না, বন্ধ ঘড়ি, মোবাইল, ছেঁড়া জুতো ফেলে দিন। ঘরে সুগন্ধি মোমবাতি জ্বালান। মা লক্ষী ও গণেশকে হলুদ মিষ্টি অর্পণ করুন, সঙ্গে রুপোর কয়েন রাখুন পূজাস্থলে। ঘিয়ের প্রদীপ প্রজ্জলিত করুন, এতে ঘরের সমৃদ্ধি ঘটে।
ঠাকুর ঘরে অবশ্যই একটি লাল কাপড়ে রুপোর কয়েন, ধনে, এলাচ, শুকনো হলুদ ও আতপচাল মা লক্ষীর সামনে রেখে পুজো করুন, পুজোর পর পুঁটুলি বেঁধে তা ক্যাশবাক্সে রেখে দিন। এতে আপনার আর্থিক উন্নতি হবেই, সঙ্গে মা লক্ষী গণেশের কৃপায় বাড়বে সমৃদ্ধি।
সবশেষে বলা যায়, অক্ষয় তৃতীয়া শুধুই বিলাসিতার উৎসব নয়, এটি বাঙালির কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও পবিত্র উৎসব ও বটে। তাই নিজের সাধ্য মতো ছোট কোনো জিনিস কিনে মা লক্ষীকে আবাহন করতে পারেন আপনিও।
