Unsuccessful KMC
Bengal Liberty: রাতভর কলকাতায় মেঘ ভাঙা বৃষ্টি। নাগরিকদের কাছে এই দুর্যোগ সংক্রান্ত কোনও খবরই ছিল না। সকালে ঘুম থেকে উঠতেই একের পর এক দুঃসংবাদ প্রকাশ পেতে শুরু করল। জমা জলে ৭ জন বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মারা গিয়েছেন। শহর জুড়ে জল যন্ত্রণা। পার্কিংয়ে থাকা গাড়িগুলো অচল অবস্থায় পড়ে। ঘরের ভিতর জল জমে গিয়েছে। আর, এত কিছুর মাঝে প্রশাসন কিছুই জানত না। ব্যর্থ মেয়রের কপালে হাত। আর, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স-হ্যান্ডেলে নিজের লেখা এবং সুর করা পুজোর গান পোস্ট করছেন! কি অদ্ভুত! ভাগ্যিস কেউ বলেননি, এটা বৃষ্টির চক্রান্ত। গত ৩৪ বছর ধরে এমন বৃষ্টি দেখেনি রাজ্য।
ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি শহরবাসী। গোটা রাত এবং সকাল জুড়ে মেঘ ভাঙা বৃষ্টি দেখল নাগরিকগণ। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ৭ জনের দেহ কলকাতার নানা জায়গায় জমে থাকা জলে ভাসছে। দিকে-দিকে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হওয়ার ঘটনা। রীতিমতো আঁতকে শহরবাসী। এখনও পর্যন্ত পাওয়া আপডেট অনুযায়ী,নেতাজি নগর, একবালপুর, গড়িয়াহাটের বালিগঞ্জ প্লেস, হরিদেবপুরের মতিলাল গুপ্ত রোড, বেহালা বুড়োশিবতলা, বেনিয়াপুকুর, কালিকাপুর মিলিয়ে ৭ জনের বিদ্যুৎপৃষ্ঠ দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও পর্যন্ত রাস্তাঘাটের যা পরিস্থিতি, তাতে করে বলাই যেতে পারে, আশঙ্কার কালো মেঘ প্রত্যেক নাগরিকের মাথায় বিরাজ করছে।
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ (Unsuccessful KMC)
পুরসভা জানাচ্ছে, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৭টা পর্যন্ত নিকাশি পাম্পিং স্টেশন ভিত্তিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ—
মানিকতলা ১৮৮ মিমি
দত্তবাগান ১৯৪ মিমি
বীরপাড়া ১৫৩ মিমি
মার্কাস স্কোয়ার ১৩৭ মিমি
বেলগাছিয়া ১৮৪ মিমি
ধাপা লক ২২১ মিমি
তপসিয়া ২৮৪ মিমি
উল্টোডাঙ্গা ২২১ মিমি
কামডহরি ৩৪০ মিমি
পামার বাজার ২৩৯ মিমি
ঠনঠনিয়া ১৯৫ মিমি
কুলিয়া ট্যাংরা ২০২ মিমি
চিংড়িঘাটা ২৪৪ মিমি
বালিগঞ্জ ২৭৯ মিমি
মোমিনপুর ২৫৮ মিমি
চেতলা লক ২৮০ মিমি
যোধপুর পার্ক ২৯০ মিমি
কালীঘাট ২৯৭ মিমি
পাগলাডাঙ্গা ২০৭.৪ মিমি
ট্রিচিং গ্রাউন্ড ১৪৩.৩ মিমি
ধানখেতি খাল ১৭২ মিমি
জোকা ডিপিএস ১০৮ মিমি
বেহালা ফ্লায়িং ক্লাব ১৮২.৮ মিমি
সিপিটি ক্যানাল ২৪৯.৪ মিমি
কুঁদঘাট ২০৫ মিমি
এসএসই পিস ১১৩.৬ মিমি
অন্যদিকে, হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের উপর একটি নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে। এক রাতেই নজিরবিহীন বৃষ্টিপাত হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বহু এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টির মতো প্রবল বর্ষণ দেখা গিয়েছে। আজ বিকেল থেকে আবারও বৃষ্টি হবে কলকাতা এবং সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ, ওডিশায়।
গত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ—
আলিপুর– ২৫১.৪ মিমি
সল্টলেক– ২২৭ মিমি
হাওড়া– ৭৮ মিমি
দমদম– ৬৩ মিমি।
কলকাতা পুরসভার মেয়র বলছেন, ‘এরকম মেঘভাঙা বৃষ্টি না-কি দেখেননি! প্রকৃতির হাতে আমরা সবাই একেবারে অবশ— বলছেন ফিরহাদ হাকিম। কথাটা ঠিক। প্রকৃতির উর্ধে কেউ নেই।’ কিন্তু প্রশ্ন হল, এই বিপর্যয় যে আসবে, তার আঁচ কি কলকাতা পুরসভা পায়নি? আগেভাগে কি ব্যবস্থা নেওয়া যেত না? মানুষকে সতর্ক করা যেত না?

বৃষ্টির দিনে শহরবাসীকে নাটকীয় দৃশ্য দেখালেন মেয়র (Unsuccessful KMC)
মানুষের ক্ষোভ তীব্র দেখে শেষ পর্যন্ত এক বুক জলে নেমে পরিস্থিতি সামনাল দেওয়ার ছবি তুলিয়ে নিলেন ফরহাদ হাকিম! এই ছবি দেখে যদি মানুষের রাগ সামাল দেওয়া যায়!
প্রশাসনের এই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এক্স-পোস্টের মাধ্যমে নানা এলাকার জলছবি তুলে ধরেছেন তিনি।
প্রশাসনিক অদক্ষতা (Unsuccessful KMC)
আজকের দিনে প্রযুক্তি যথেষ্ট উন্নত। কখন, কত পরিমাণ বৃষ্টি হবে— সেই আভাস আগেই থেকেই মেলে। কলকাতা এবং বিধাননগর পুরনিগমের মেয়রদের অদক্ষতা ও উদাসীনতার ফল শহরবাসীকে ভোগ করতে হচ্ছে। এরা পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে কোনো শিক্ষা নেননি। বছরের পর বছর একই চিত্র!
এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কালো মেঘাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে শরতের নীল খুঁজে পাচ্ছেন। শহরের মানুষ যখন জলের তলায়, তখন মমতা তাঁর এক্স-হ্যান্ডেলে পোস্ট করছেন তাঁর লেখা এবং সুর করা পুজোর গান। হ্যাঁ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রমাণ করলেন, এই রাজ্যে উৎসব আগে, মানুষের দুর্ভোগ পরে।
