Lok Bhaban Oath Ceremony
Bengal Liberty, ১ জুন :
সোমবার লোকভবনে আক্ষরিক অর্থেই বসল চাঁদের হাট (Lok Bhaban Oath Ceremony)। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে, রাজ্যের শাসনভার গ্রহণের পর, প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে এবং সমস্ত স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক ও জাঁকজমকপূর্ণ আবহে মেগা সম্প্রসারণ ঘটল রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে, খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এদিন নবীন ও প্রবীণের অনবদ্য মেলবন্ধনে মোট ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করলেন। বন্দেমাতরম আর জাতীয় সঙ্গীতের সুরে মুখরিত গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে নবনিযুক্ত এই ‘সেনাপতি’দের শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আরএন রবি (Lok Bhaban Oath Ceremony)।

কারা করলেন শপথবাক্য পাঠ ? (Lok Bhaban Oath Ceremony)
মঞ্চে দাঁড়িয়ে মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করলেন মুখ্যসচিব মনোজ। পূর্ণমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন তাপস রায়, মনোজ ওরাওঁ, অর্জুন সিংহ, গৌরীশঙ্কর ঘোষ, দীপক বর্মন, অরূপ কুমার দাস, স্বপন দাশগুপ্ত, কল্যাণ চক্রবর্তী, শঙ্কর ঘোষ, দুধকুমার মণ্ডলেরা। স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হলেন মালতি রাভা রায়, রাজেশ মাহাতো, ইন্দ্রনীল খাঁ। অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন অশোক দিন্ডা, কৌশিক চৌধুরী, জুয়েল মুর্মু, হরেকৃষ্ণ বেরা, শান্তনু প্রামাণিক, উমেশ রায়, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, ভাস্কর ভট্টাচার্য, দিবাকর ঘরামি, নাদিয়ার চাঁদ বাউড়ি, গার্গী দাস ঘোষ, অমিয় কিস্কু, কলিতা মাজি, বিরাজ বিশ্বাস, সুমনা সরকার, আনন্দময় বর্মন, বিশাল লামা, দীপঙ্কর জানা প্রমূখ।

বাঙালি আবেগকে সঙ্গী করেই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ (Lok Bhaban Oath Ceremony)
এদিনের শপথগ্রহণে এক অন্যরকম সাংস্কৃতিক চমক দেখা যায়। নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের অধিকাংশই সেজে এসেছিলেন নিখাদ বাঙালি সাজে, আদ্যোপান্ত ধুতি ও পাঞ্জাবিতে। জীবনের ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে অনেকেই পরিবারকে সঙ্গে এনেছিলেন। দর্শকাসনে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের রাজনৈতিক গাম্ভীর্য বাড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হলেও, কে কোন দফতরের চাবিকাঠি পাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা এখন তুঙ্গে। দফতর বণ্টন যাই হোক না কেন, প্রথম বিজেপি সরকারের এই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার কাছে বাংলার মানুষের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। ধুতি-পাঞ্জাবিতে মোড়া বাঙালি আবেগের এই শপথগ্রহণ কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি বাংলার বুকে এক নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়ের দৃঢ় সূচনা।


