Mamata Banerjee
Bengal Liberty, ১ জুন, কলকাতা: বিধায়ক বহিষ্কারের পর এবার ধরনা কর্মসূচি ঘিরে বড়সড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। আগামীকাল, ২ জুন মঙ্গলবার, ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে মেগা ধরনায় বসার কথা ছিল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু কর্মসূচির মাত্র একদিন আগে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, রানি রাসমণি রোডে ধরনার অনুমতি দেওয়া যাবে না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
চিঠিতে কী আবেদন করেছিল তৃণমূল? (Mamata Banerjee)
সামনে আসা একটি সরকারি চিঠি থেকে জানা গিয়েছে, গত ২৯ মে ২০২৬ তারিখে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের স্বাক্ষরিত একটি আবেদনপত্র কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স)-এর কাছে পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২ জুন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রানি রাসমণি রোডে একটি ধরনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।

অনুমতি মেলেনি রানি রাসমণি রোডে, বিকল্প প্রস্তাব পুলিশের (Mamata Banerjee)
তৃণমূলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, আগামীকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলার কথা থাকলেও নেত্রী নিজে বেলা ২টো থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ধরনামঞ্চে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশ রানি রাসমণি রোডে এত দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরনার অনুমতি দেয়নি। বিকল্প হিসেবে পুলিশের তরফে ধর্মতলার ‘ওয়াই (Y) চ্যানেল’-এ কর্মসূচি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাও মাত্র দু’ঘণ্টার জন্য। পুলিশের এই সংক্ষিপ্ত সময়সীমার বিকল্প প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে রাজি হয়নি তৃণমূল নেতৃত্ব।

তৃণমূলের পাল্টা ‘প্রতিহিংসা’র অভিযোগ (Mamata Banerjee)
অনুমতি না মেলায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে জোড়াফুল শিবির। তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যেই প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের দাবি, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ অতীতের এক ভিন্ন চিত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, অতীতে যখন রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় ছিল, তখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ধরনা বা বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে চাইলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসনের অনুমতি পেতেন না। সে সময় তাঁকে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। প্রশাসনিক পালাবদলের পর আজ বাংলার রাজনীতিতে যেন উল্টো ছবিই দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, সই জালিয়াতি কাণ্ডে আজই দলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ দলনেত্রীর ধরনা কর্মসূচি নিয়ে তৈরি হওয়া এই নতুন জটিলতা কীভাবে সামাল দেয় দল, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

