Rising Cricket Star
Bengal Liberty, ৬ জুন ২০২৬ : ৬ জুন, শনিবার দিনটি ভারতীয় ক্রিকেট অনুরাগীদের কাছে এক স্মরণীয় দিন (Rising Cricket Star) হয়ে রইল। একদিকে ভারত-আফগানিস্তান টেস্ট ম্যাচে চালকের আসনে বসে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ভারত, অন্যদিকে তেমনই আসন্ন এশিয়ান গেমস, আয়ারল্যান্ড সফর এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের ভারতীয় দল ঘোষণা করা হলো। নতুন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও সহ-অধিনায়ক তিলক বর্মার নেতৃত্বে ঘোষিত এই দলে রয়েছে একাধিক চেনা-অচেনা মুখ। তবে সবচেয়ে বড় চমক ১৫ বছরের বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশীর সিনিয়র দলে সুযোগ পাওয়া। এশিয়ান গেমসের মতো মেগা টুর্নামেন্ট ও গুরুত্বপূর্ণ সফরে এই ‘ওয়ান্ডারকিড’-কে জায়গা দিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী স্পষ্ট করে দিল— তারা ভবিষ্যতের দল গড়ার দিকেই এগোচ্ছে।

“গড অফ ক্রিকেট” শচীন রমেশ টেন্ডুলকার মাত্র ১৬ বছর বয়সে তৎকালীন বিসিসিআই সভাপতি রাজ সিং দুঙ্গারপুরের উদ্যোগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন (Rising Cricket Star)। তারপরের ইতিহাস সবারই জানা। অতীতে পাকিস্তানের হানিফ মোহাম্মদ কিংবা জিম্বাবুয়ে দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তাতেন্দা তাইবুও মাত্র ১৬ বছর বয়সে দেশের প্রতিনিধিত্ব বা নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে পৃথ্বী শ-ও খুব অল্প বয়সে পাদপ্রদীপের আলোয় এসেছিলেন। তবে তাঁদের প্রত্যেককেই শুরুর দিনগুলোতে কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছিল।
কিন্তু বৈভব সূর্যবংশীর উত্থানের গল্পটা একটু অন্যরকম। আইপিএলে নিজের খেলা প্রথম বলেই মোহাম্মদ সিরাজকে ছক্কা মেরে তাঁর পথচলা শুরু। এরপর টুর্নামেন্টে একের পর এক বিশ্বমানের বোলারকে রাজকীয় ভঙ্গিতে শাসন করে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন বৈভব।

আইপিএলে বৈভবের কীর্তি(Rising Cricket Star)
২০২৫ সালের আইপিএল মেগা নিলামে ৩০ লক্ষ টাকার ভিত্তিমূল্যে তৎকালীন কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের আগ্রহে তাঁকে রাজস্থান রয়্যালস দলে নেওয়া হয়। এরপর সুযোগ পেয়েই নিজের প্রতিভার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করেন বৈভব।
চলতি মরসুমে ১৫ বছর বয়সী রাজস্থান রয়্যালসের এই তারকা আইপিএল ক্রিকেটে একাধিক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। তিনি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান এবং আইপিএলে দ্রুততম ১০০০ রান করা ব্যাটার। ২০২৬ সালের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ২৩৭-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ৭৭৬ রান করে অরেঞ্জ ক্যাপ জিতে নিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও আইপিএলে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে আরও একাধিক নজরকাড়া রেকর্ড:
অরেঞ্জ ক্যাপ ও সেরা ব্যাটার: আইপিএল ২০২৬-এ ৭৭৬ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে টুর্নামেন্টের অরেঞ্জ ক্যাপ জিতেছেন।
দ্রুততম ১০০০ রান আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বল খেলে দ্রুততম ১০০০ রান করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি।
সর্বাধিক ছক্কা একটি নির্দিষ্ট আইপিএল মরসুমে সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ডও এখন তাঁর দখলে। এই তালিকায় তিনি পেছনে ফেলে দিয়েছেন ক্রিস গেইল ও রোহিত শর্মার মতো তারকাদের।
বাবার স্বপ্নপূরণ(Rising Cricket Star)
ছোটবেলায় বাবার হাত ধরেই বৈভবের ক্রিকেটে হাতেখড়ি। বিহারের সমস্তিপুর জেলায় তাঁর জন্ম। বৈভবের বাবা সঞ্জীব সূর্যবংশী নিজেও একজন ক্লাব স্তরের প্রাক্তন ক্রিকেটার ছিলেন। নিজের ছেলেকে বড় ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে চলছিলেন সঞ্জীববাবু। আজ তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।
রঞ্জি ট্রফি, দুলীপ ট্রফি কিংবা ইরানি কাপের মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফর্ম করেও অনেক সময় খেলোয়াড়রা ভারতীয় দলে সুযোগ পান না। অমল মজুমদার বা লক্ষ্মীরতন শুক্লার মতো ঘরোয়া ক্রিকেটের বহু দিকপাল সময়ের নিয়মে জাতীয় দল থেকে একপ্রকার হারিয়ে গেছেন। কিন্তু বৈভবের ক্ষেত্রে ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট তার প্রতিভার ওপর ভরসা রেখে সময়ের আগেই সুযোগ করে দিল।

এই প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর বলেন, “বৈভব সূর্যবংশীর প্রতিভা দেখে আমি সত্যিই বিস্মিত। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ও যেভাবে ব্যাটিং করেছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। সেই কারণেই কার্যত বাধ্য হয়েই আমরা বৈভবকে মূল দলে নিয়েছি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ও আমাদের হতাশ করবে না।”

বর্তমানে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব মজেছে বৈভব-বন্দনায়। ডাব্লিউডাব্লিউই (WWE) তারকা ড্রু ম্যাকইনটায়ার থেকে শুরু করে ‘বিগ বি’ অমিতাভ বচ্চন কিংবা স্বয়ং কিং কোহলি— প্রত্যেকেই এই তরুণ প্রতিভাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন এবং তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।
এখন দেখার, এত প্রত্যাশা আর ভরসার চাপ মাথায় নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় কতটা সফল হন এই ‘ওয়ান্ডারকিড’ বৈভব সূর্যবংশী। আপাতত সেদিকেই নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।

