Hebron Shooting Incident
Bengal Liberty, ৭ জুন ২০২৬ : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ফের ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সংঘাতের(Hebron Shooting Incident) বলি হলো সাত মাস বয়সী এক শিশু। হেবরন দিয়ে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি বাহিনী স্যাম ফাহদ আবু হাইকালের পরিবারের গাড়িতে গুলি চালালে শিশুটি নিহত হয়। গুলিটি শিশুটির শরীর ভেদ করে তার মায়ের গায়েও লাগে। ইতিমধ্যে শিশুটির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তার বাবা-মা আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মূল ঘটনা(Hebron Shooting Incident)
পরিবারটি বেথলেহেম থেকে একদিনের ভ্রমণ শেষে হেবরনে ফিরছিল, সেই সময় সৈন্যরা তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। শিশুটির বাবা ফাহদ আবু হাইকাল জানান, একটি গুলি তার হাত ভেদ করে স্যামকে বিদ্ধ করে, যাকে তার মা গাড়ির পিছনের আসনে ধরে রেখেছিলেন।
এই ঘটনার খবর সামনে আসতেই বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে একটি স্বচ্ছ তদন্তের দাবি করেছে।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া(Hebron Shooting Incident)
সেনাবাহিনীর দুঃখপ্রকাশকে প্রকাশ্যে নাকচ করে দিয়েছেন শিশুটির বাবা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গুলি শুরু হওয়ার আগেই তাদের পরিবার একটি ‘থামার আদেশ’ (Stop Order) মেনে চলেছিল। তাই এই ক্ষতিকে নিছক একটি ‘ভুল’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
নিহত স্যামকে একটি ফিলিস্তিনি পতাকায় জড়িয়ে সমাহিত করা হয়। হামলায় তার মা গুরুতর আহত হন এবং বাবা হাতে আঘাত পান।
আরো পড়ুন:- Debangshu Bhattacharya: দলে থেকে দলবিরোধী মন্তব্য দেবাংশুর
আইডিএফ-এর বক্তব্য এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র জনরোষের মধ্যেই প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)। তারা জানিয়েছে, সৈন্যরা “তাদের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসা একটি গাড়ি দেখতে পেয়ে” সেটির দিকে গুলি চালায়। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে গাড়ির যাত্রীরা নিরীহ বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। আইডিএফ “নিরীহ ব্যক্তিদের যেকোনো ক্ষতির জন্য গভীর দুঃখ” প্রকাশ করে একটি বিবৃতি জারি করেছে।
চলমান সংঘাত ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া’
পশ্চিম তীরের এই ঘটনা নতুন নয়; চলমান সংঘাতের জেরে এর আগেও বহু সাধারণ মানুষের প্রাণ গেছে। সম্প্রতি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং লেবানন ও সংলগ্ন এলাকায় ধারাবাহিক হামলার খবর সামনে এসেছে। এই সংঘাতের কারণে ইতিমধ্যে বহু মানুষ হতাহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বিশ্বব্যাপী এই ধরনের ঘটনা সাময়িক আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করলেও, স্থায়ী কোনো সমাধান না আসায় ক্ষোভ বাড়ছে ফিলিস্তিনের সাধারণ নাগরিকদের মনে।

‘চেরি পিকিং’ ও বিশ্ব বিবেকের নীরবতা(Hebron Shooting Incident)
সন্তানের নিথর দেহ নিয়ে বিচারের আশায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফাহদ আবু হাইকাল। তবে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে এক বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ভূ-রাজনীতিতে প্রায়শই ‘চেরি পিকিং’ বা সুবিধাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়—যেখানে শক্তিশালী দেশগুলো কেবল নিজেদের স্বার্থ জড়িত থাকলেই সোচ্চার হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা যদি কোনো পশ্চিমা বা প্রথম বিশ্বের দেশে ঘটত, তবে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও মোমবাতি মিছিল দেখা যেত। কিন্তু হেবরনের মতো জায়গায় এমন মর্মান্তিক ঘটনার পরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একাংশের নীরবতা বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর দ্বিমুখী নীতিকেই স্পষ্ট করে তোলে। বিশ্বনেতারা প্রায়শই সমবেদনা জানিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেন, কিন্তু যুদ্ধ ও মানবহত্যার এই নির্মম খেলা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।


