Ashok Bhattacharya
Bengal Liberty: শনিবার রাতে শিলিগুড়ির বাড়িতে আচমকাই পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পান রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্য। পড়ে যাওয়ার ফলে তাঁর মাথা ফেটে যায়। ঘটনার পরই দ্রুততার সাথে তাঁকে উদ্ধার করে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর মাথার ক্ষতস্থানে ছ’টি সেলাই পড়েছে (Ashok Bhattacharya)। ইতিমিধ্যেই তাঁর সিটি স্ক্যান করা হয়েছে এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন। আপাতত তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল।

হাসপাতালে শঙ্কর ঘোষ, ফোনে কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর (Ashok Bhattacharya)
রাজনৈতিক গুরুর অসুস্থতার খবর পেয়েই রবিবার সকালে শিলিগুড়ি পৌঁছে সরাসরি হাসপাতালে ছুটে যান রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh)। তিনি অশোকবাবুর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এদিকে হাসপাতালের বেডে শুয়েই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে ফোনে কথা বলেন অশোক ভট্টাচার্য। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি জানান, চলতি মাসের ১৬ বা ১৭ তারিখ তিনি শিলিগুড়ি ও কার্শিয়াং সফরে আসছেন। সেই সময় তাঁদের দেখাও হতে পারে।
“হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেলাম”, শুভেন্দুকে জানালেন অশোক
ফোনালাপে নিজের অসুস্থতার খতিয়ান দিয়ে অশোক ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, “গতকাল একটা বিষয় নিয়ে লিখছিলাম, সেই সময়ই হঠাৎ করে কী যেন হলো, মাথা ঘুরে পড়ে গেলাম (Suvendu Adhikari)।” মুখ্যমন্ত্রী তাঁর রক্তচাপের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবীণ বাম নেতা জানান, “না, সে রকম কিছু নেই। সিটি স্ক্যান হয়েছে, এমআরআই (MRI) রিপোর্টটা আসা বাকি।” এরপর মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে নিজের খেয়াল রাখার পরামর্শ দিলে অশোকবাবু মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “তোমাকেও অনেক অভিনন্দন। তোমার বাবাকেও বলো, ভালো থেকো।”
পারিবারিক সম্পর্কের সৌজন্য রাজনীতিতে (Ashok Bhattacharya)
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তিনি অশোক ভট্টাচার্যকে দেখতে এসেছিলেন। শঙ্করবাবু বলেন, “আসলে অনেকটাই বয়স হয়ে গিয়েছে উনার। মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সাথে অশোকবাবুর অনেকদিনের পরিচয়। তাঁর বাবা শিশির অধিকারী মহাশয়ের সাথেও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যেমন আজ উনার খোঁজ নিলেন, তেমনই অশোকবাবুও শিশিরবাবুর খোঁজ নিয়েছেন।” রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও এই কঠিন সময়ে দুই নেতার এই সৌজন্য বিনিময়কে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

