Jasimuddin Arrested
Bengal Liberty :
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টার টালবাহানার পর অবশেষে গ্রেফতার করা হল কলকাতা পুরসভার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে (Jasimuddin Arrested)। রবিবার সকালে তাঁর বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন, পরবর্তী সময়ে হেনস্থা ও হুমকি দেওয়া এবং সমাজমাধ্যমে নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ, এর আগেও নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। পরিবারের দাবি, পুরনো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শনিবার ফের নাবালিকাকে হেনস্থার অভিযোগ ওঠার পর পরিবারের সদস্যরা থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের করেন।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার রাতে কলাবাগান এলাকার একটি ফাঁকা রাস্তায় তরুণীকে একা পেয়ে কাউন্সিলরের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ প্রথমে কটূক্তি করতে শুরু করে। পরে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে মধ্য কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রমাণ নষ্টের চেষ্টার অভিযোগ
তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে। অভিযোগ, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই এই কাজ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ভয় দেখানো, নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ এবং শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অপরাধ।

রবিবার ভোর প্রায় ৬টা নাগাদ পুলিশ জসিমউদ্দিনের বাড়িতে পৌঁছয়। দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় পুলিশ বাইরে অপেক্ষা করে। পরে বিকল্প চাবির সাহায্যে দরজা খুলে তাঁকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে গ্রেফতার দেখানো হয়।
রাজনৈতিক মহলে জসিমউদ্দিনকে একসময় প্রাক্তন বিধায়ক বিবেক গুপ্তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বলা হতো। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব ছিল বলেও জানা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের অভ্যন্তরে তাঁর প্রভাব কমেছে বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।
পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

