Jahangir Khan
Bengal Liberty:
অবশেষে গ্রেফতার পুষ্পা (Jahangir Khan)। ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স । দীর্ঘদিনের গুন্ডামি , জুলুমবাজি, সীমাহীন অত্যাচার! সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া বিস্ফারিত হয়েছিল ফলতার পুনর্নির্বাচনের সময়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রচারের দিন সেই দৃশ্য আরও স্পষ্ট ভাবে ধরা দেয়। সূত্রের খবর, নেপাল সীমান্ত ধরে পালানোর চেষ্টা করছিলেন পুষ্পা জাহাঙ্গির। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান এসটিএফ-এর আধিকারিকেরা। পাকড়াও করা হয় ফলতার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীকে।
ভোটের ফলাফল প্রকাশের আগেই একপ্রকার হার স্বীকার করেছিল ফলতার পুষ্পা। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পদ লাভের পর প্রচারে গিয়ে ফলতার মানুষকে ‘ভয় আউট ভরসা ইন’ এর আশ্বাস দিয়েছিলেন। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাথা ঝুঁকিয়েছিল জাহাঙ্গির খান। ভোটের রেজাল্ট বলে দেয়, ফলতাবাসী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু যাওয়ার পর ভরসা করে ভোট দিয়েছিল। বিগত বছরগুলিতে ভয় দেখিয়ে ভোট আদায় করত ফলতার ত্রাস। গত ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হয়েছিল। নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডান হাত পুষ্পা। কিন্তু ইভিএমে তৃণমূলের প্রতীকের পাশে জাহাঙ্গিরের নাম ছিল। গত ২৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশে দেখা যায়, ফলতায় ১ লক্ষ ৯ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। দ্বিতীয় স্থানে ৪০ হাজারেরও বেশি পেয়েছে সিপিএম। আর ৭৭৮৩টি ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে জাহাঙ্গির।

অবশেষে আটক পুষ্পা
সূত্রের খবর, নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে স্ত্রী পুত্র সহ পালানোর চেষ্টা করেছিলেন জাহাঙ্গির। কিন্তু আটক করে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স। পালাবদল হতেই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হচ্ছে একাধিক বিধায়ক, কাউন্সিলররা। সকলেই একই রীতিতে বিশ্বাসী। বিগত বছরগুলি ধরে দুর্নীতি, তোলাবাজি, জালিয়াতি অত্যাচার চালানোর পর রাজ্যে সরকার বদল হতেই গা ঢাকা দিচ্ছে তৃণমূলের সকল দাপুটে নেতারা। তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ অভিষেক ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির। নিজেকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে একটি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় রক্ষাকবচ পান ফলতার ওই তৃণমূল নেতা। এমনকি, ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের আগে হাই কোর্ট থেকে আরেকটি রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির। কিন্তু গত ২৬ মে জাহাঙ্গিরকে দেওয়া সমস্ত রক্ষাকবচই প্রত্যাহার করে নেয় কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে, গ্রেফতারিতে আর কোন বাধা ছিল না। গতকাল, নেপাল সীমান্ত থেকে আটক করে পুলিশ।
পাপকার্যে লিপ্ত সকল তৃণমূল নেতারা গতানুগতিক ধারা বজায় রাখে। বিগত কিছুদিন আগেই হাওড়ার শিবপুরে চওড়াবস্তি এলাকার অন্যতম দাপুটে নেতা শামিম আহমেদ ওরফে বড়ে পলাতক ছিলেন। বোমাবাজি কাণ্ডে অভিযুক্ত শামিমের বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালালে গোপন সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে খোঁজ মেলে বিলাসবহুল অন্দরমহলের। পরবর্তীতে মুম্বই থেকে গ্রেফতার হয় বড়ে। গতকাল, স্বপরিবারে পালানোর সময় এসটিএফ পুলিশ আটক করে ফলতার ত্রাস জাহাঙ্গিরকে। প্রথমে ক্ষমতার দাপটে অত্যাচার , তারপর চরম হারের পর আত্মগোপন , শেষে পুলিশের জালে আটক। এই ঘরায়ণায় চলছে বর্তমানে তৃণমূল। পুষ্পা গ্রেফতারে রীতিমত তরজা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এখন দেখার, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

