TMC Minister
Bengal Liberty: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের সুর আরও স্পষ্ট। এবার দল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দেওয়ার প্রকাশ্য ইচ্ছা প্রকাশ করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সৌমেন মহাপাত্র (Saumen Mahapatra)। চারবারের বিধায়ক এবং দুই মেয়াদের এই প্রাক্তন মন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারী গ্রিন সিগন্যাল দিলেই তিনি পদ্মশিবিরে যোগ দিতে প্রস্তুত (TMC Minister)।

দলের বিরুদ্ধে একঝাঁক ক্ষোভ (TMC Minister)
বিগত প্রায় তিন বছর ধরেই দলের অন্দরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন সৌমেনবাবু। প্রথমে মন্ত্রিত্ব এবং পরে জেলা সভাপতির পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। দল ছাড়ার আবহ তৈরি হতেই শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ:
-
কর্পোরেট কালচার: তৃণমূল এখন পুরোপুরি কর্পোরেট সংস্কৃতিতে চলছে।
-
নেতৃত্বের অভাব: মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে সমস্যার কথা জানানোর কোনো সুযোগ ছিল না।
-
সম্মানের অভাব: দলে কাজের মূল্যায়ন নেই, প্রয়োজন ফুরোলেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। জোর করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘সেনাপতি’ হিসেবে মেনে নিতে হতো।
“দলটা এখন কর্পোরেট কালচারে চলছে। মন্ত্রী হয়েও মমতা বা অভিষেকের সঙ্গে দেখা করা যেত না (TMC Minister)। না চাইলেও অভিষেককে সেনাপতির সম্মান দিতে হতো। এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতির কারণেই শুভেন্দু অধিকারী বাধ্য হয়ে দল ছেড়েছিলেন।” — সৌমেন মহাপাত্র, প্রাক্তন মন্ত্রী
শুভেন্দুর দরাজ প্রশংসা
এদিন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তুলনা টেনে শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন সৌমেন মহাপাত্র। তিনি শুভেন্দুকে ‘তরুণ মুখ্যমন্ত্রী’ ও যোগ্য জননেতা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, কার্যক্ষেত্রে তাঁর কোনো বিকল্প নেই।
বিজেপিতে যোগদানের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, বিজেপির একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শৃঙ্খলা রয়েছে। দলের রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারী যদি চান, তবে তিনি গেরুয়া শিবিরের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই মানুষের জন্য কাজ করতে আগ্রহী।
অস্বস্তিতে তৃণমূল, রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা
২০২৬-এর ভোটের ধাক্কা সামলানোর আগেই সৌমেন মহাপাত্রের মতো একজন প্রবীণ ও হেভিওয়েট নেতার এই ‘বেসুরো’ মন্তব্য তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মেদিনীপুরের রাজনীতিতে সৌমেনবাবুর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, ফলে তাঁর দলবদল জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই বদলে দিতে পারে।
তবে প্রাক্তন মন্ত্রীর এই বিস্ফোরক মন্তব্য নিয়ে এখনই কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হয়নি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। পুরো বিষয়টি নিয়ে আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়েছে শাসকদল।

