Rathindra Bose
Bengal Liberty, ১১ জুন :
লাল ফিতের ফাঁস আর পাহাড়প্রমাণ কাগজের স্তূপ এবার অতীত। রাজ্যে বইতে শুরু করেছে ডিজিটাইজেশনের হাওয়া। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র এক মাসের মধ্যেই কেন্দ্রের ‘ন্যাশনাল ই-বিধান অ্যাপ্লিকেশন’ বা ‘নেভা’ প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে শামিল করল (Rathindra Bose)। বিগত তৃণমূল সরকারের জমানায় যে প্রকল্পটি কার্যত ব্রাত্য ছিল, তাকেই হাতিয়ার করে এবার রাজ্যের বিধানসভাকে সম্পূর্ণ পেপারলেস করতে চলেছেন বর্তমান সরকার। স্বচ্ছতা, দ্রুততা এবং প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এক নয়া যুগের সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্যের আইনসভা। তার জন্য বিধায়কদের দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ, জানালেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু (Rathindra Bose)।

বিধায়কদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ (Rathindra Bose)
রাজ্যের বর্তমান অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু জানিয়েছেন, কেন্দ্রের এই মেগা প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই রাজ্য বিধানসভার যাবতীয় কাজকর্ম এবার থেকে ডিজিটাল মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। এর জন্য খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে বিধায়কদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির। অধ্যক্ষের কথায়, “এবারের বিধানসভায় অন্তত ২০০ জন নতুন বিধায়ক এসেছেন। তাঁদের ডিজিটাল ব্যবস্থায় অভ্যস্ত করতে বাজেট অধিবেশনের পরেই প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।” তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই প্রশিক্ষণ শিবিরে পাঠ দিতে খোদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা রাজ্যে আসছেন। তাঁর পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানের অধ্যক্ষরাও।

‘নেভা’-র সুবিধা (Rathindra Bose)
বছর পাঁচেক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি খোদ রাজ্যের তৎকালীন তৃণমূল সরকারকে এই ই-বিধানসভা প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানালেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তাতে সায় দেয়নি। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই চিত্রটা বদলে যায়। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দ্রুত স্বাক্ষরিত MoU অনুযায়ী, এখন থেকে ‘নেভা’ অ্যাপের মাধ্যমেই বিধায়করা নোটিস দেওয়া, প্রশ্ন জমা বা প্রস্তাব আনার মতো যাবতীয় কাজ সারতে পারবেন। এর ফলে সাধারণ মানুষও ঘরে বসে স্মার্টফোনে বিধানসভার অধিবেশনের লাইভ সম্প্রচার দেখতে পারবেন এবং নিজেদের মূল্যবান মতামতও নথিভুক্ত করতে পারবেন। অর্থাৎ, বহু বছরের পুরনো অভ্যাসের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চলেছে বঙ্গ বিধানসভা। দীর্ঘদিনের কাগজের স্তূপ আর ধুলোমাখা ফাইলের দিন এবার সত্যি শেষ হতে চলেছে। সবচেয়ে বড় কথা, সাধারণ মানুষ এখন আর শুধুই দর্শক নন, তাঁরা হয়ে উঠবেন আইনসভার রোজকার কাজের প্রত্যক্ষ নজরদার।


