Kakali ghosh dastidar
Bengal Liberty:
লোকসভার অধিবেশন শুরু হতেই সংসদীয় দলে বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়তে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস? রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনার মাঝেই এবার নতুন বিস্ফোরণ ঘটালেন বিক্ষুব্ধ শিবিরের অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (TMC MPs) । এতদিন যেখানে ২০ জন সাংসদের সমর্থনের কথা শোনা যাচ্ছিল, সেখানে রবিবার তিনি দাবি করলেন, বিক্ষুব্ধ শিবিরের শক্তি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২-এ। অর্থাৎ, শেষ মুহূর্তেও জোড়াফুল শিবিরের সংসদীয় দলে ভাঙনের স্রোত থামেনি, যোগ দিচ্ছেন আরও দুই সাংসদ।

প্রথমে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সই করা যে চিঠিটি প্রকাশ্যে এসেছিল, সেখানে ১৯ জনের নাম ছিল। শনিবার তাতে যোগ দেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই শিবিরের অন্যতম নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করলেন, তাঁদের সংখ্যা আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, বিক্ষুব্ধ সাংসদরা সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে নিজেদের আলাদা ব্লক হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানাতে পারেন। এমনকি শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করতে পারেন বলেও জল্পনা চলছে।
রবিবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে কাকলি জানান, বিদ্রোহী শিবিরে এখন ২২ জন সাংসদ রয়েছেন। তবে নতুন করে যোগ দেওয়া ওই দুই সাংসদের পরিচয় এখনও খোলসা করেননি তিনি।

২০ নয়! ২২ জন
সংসদীয় রাজনীতিতে এই সমীকরণ সত্যি হলে আরেকটি সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, বর্তমান দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম লোকসভায় দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করতে পারেন বিক্ষুব্ধরা। একই সঙ্গে মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) পদে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে বহাল রাখার আর্জি জানানো হতে পারে। পাশাপাশি, লোকসভায় তাঁদের আসন এনডিএ (NDA) সাংসদদের পাশে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, প্রথম দফায় প্রকাশ্যে আসা চিঠিতে যে ১৯ জন সাংসদের নাম জানা গিয়েছিল, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন— কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, বাপি হালদার, শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, অসিত মাল, অরূপ চক্রবর্তী, কালীপদ সোরেন, দেব (দীপক অধিকারী), জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ এবং মালা রায়। পরবর্তীতে সেই তালিকায় যুক্ত হয় রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষের নাম। প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে দাঁড়ানোয় সংখ্যাটা দাঁড়ায় ২০-তে। কিন্তু বাকি দুজন কারা? এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই দাবি সত্যি হলে, সোমবারের পর জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।


