Us Iran Peace
Bengal Liberty, ১৫ জুন ২০২৬ : গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ(Us Iran Peace) ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনেই-এর মৃত্যুর পর গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এক বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েল—এই তিনটি রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সংঘাতের কারণে গোটা বিশ্বের মানুষকে চরম ভুগতে হয়েছে। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে প্রতিদিন গ্যাস ও পেট্রোলের লাগামছাড়া দাম—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। একাধিক শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর শেষমেশ একটি স্বস্তির খবর এসেছে, যা সারা বিশ্বের মানুষের উদ্বেগ দূর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুই রাষ্ট্রের শান্তি চুক্তি(Us Iran Peace)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ নজিরবিহীন সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে একটি(Us Iran Peace) ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে, ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।


এই শান্তি চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ইতি ঘটবে এবং একই সাথে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলা যুদ্ধেরও নিষ্পত্তি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে বলেও জানা গেছে। ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের সময় দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় উপস্থিত থাকবেন।
হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক প্রসঙ্গ(Us Iran Peace)
সূত্রের খবর, শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরই যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়েও পশ্চিমা দেশগুলো ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। এরই সাথে চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে একটি ৬০ দিনের বিশেষ আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আন্তর্জাতিক সমর্থন(Us Iran Peace)
এই ঐতিহাসিক চুক্তির ঘোষণার পর পরই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, কাতার, তুরস্ক, জার্মানি, ভারত, জাপান, যুক্তরাজ্য (ইউকে) ও ইতালি।
এখনো রয়েছে কিছু জটিলতা(Us Iran Peace)
শান্তি প্রস্তাব ও যুদ্ধ নিষ্পত্তির খবর সামনে এলেও কিছু বিষয় এখনো রহস্যের বেড়াজালেই আটকে আছে। প্রথমত, যুদ্ধের এতগুলো মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো আলী খামেনেই-এর দাফন কেন সম্পন্ন করা হয়নি? এর পেছনে কি কোনো বড় রাজনৈতিক রহস্য লুকিয়ে আছে?

আন্তর্জাতিক মহলে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে যতই প্রচার করুন না কেন, বিশ্লেষকদের মতে—মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমেরিকারই। তাদের ‘সুপারপাওয়ার’ হওয়ার দাবি এই সংকটে বড় ধাক্কা খেয়েছে; উল্টে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এমনকি নিজের দলের ভেতরেও ট্রাম্পের এই নীতি পুরোপুরি সমর্থন পায়নি।
১৯ জুন চুক্তি স্বাক্ষরের পর ফের কি নতুন কোনো জটিলতার সৃষ্টি হবে? ইরানের পর আমেরিকার পরবর্তী লক্ষ্য কি কিউবা কিংবা স্পেন? এই প্রশ্নটি উঠছে কারণ, ইরানের সাথে যুদ্ধ চলাকালীনই কিউবা ও স্পেনকে হুঁশিয়ারি দিতে দেখা গিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। একই সাথে প্রশ্ন উঠছে, ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি কি আমেরিকা শেষ পর্যন্ত ফেরত দেবে?
তাই বিশ্ববাসীর চিন্তা সত্যিই দূর হবে, নাকি তা আরও বৃদ্ধি পাবে? আন্তর্জাতিক মহলে আবারও কি পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠবে? এই সব নতুন সমীকরণ ও প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চালাচ্ছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আরো পড়ুন:- G-7 Summit Clash: সম্মেলনের আগের দিন সুইজারল্যান্ডে জি-৭ বিরোধী বিক্ষোভ!


