Saokat Molla
Bengal Liberty, ১৬ জুন :
ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায়, ঘটনার ৮৭ দিনের মাথায় আদালতে ৬৫ পাতার চার্জশিট জমা দিল তদন্তকারী সংস্থা (Saokat Molla)। চার্জশিটে আহিদুল ইসলাম মোল্লা ও রহমত আলি মোল্লার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার নামও তদন্তের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে খবর। মঙ্গলবার আদালতে এনআইএ দাবি করে, ভোটের আগে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করতে পরিকল্পিতভাবে বোমা তৈরির কাজ চলছিল। সেই ঘটনায় শওকত মোল্লার ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। এদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই তাঁকে আদালতে হাজির করিয়ে বিচারবিভাগীয় হেফাজতের আবেদন জানায় এনআইএ। শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতে তদন্তকারী সংস্থা ও শওকতের আইনজীবীর মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডাও দেখা যায় (Saokat Molla)।

৬৫ পাতার চার্জশিটে বিস্ফোরক অভিযোগ (Saokat Molla)
এনআইএ সূত্রে জানা গেছে, ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় ইতিমধ্যেই মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে আহিদুল ইসলাম মোল্লা এবং রহমত আলি মোল্লার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনের একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। যদিও এই পর্যায়ে তাঁদের বিরুদ্ধেই আনুষ্ঠানিক চার্জশিট জমা পড়েছে, তদন্তকারী সংস্থার নথিতে শওকত মোল্লার নামও উল্লেখ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে খবর। এনআইএর দাবি, ঘটনার সময় শওকত মোল্লা বিধায়ক ছিলেন এবং এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায় অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ জানাতে সাহস পাননি। এমনকি স্থানীয় থানার প্রাথমিক এফআইআরেও তাঁর নাম না থাকার কারণ হিসেবে এই রাজনৈতিক প্রভাবের প্রসঙ্গ আদালতে তুলে ধরেন তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী।

আদালতে তুমুল তরজা (Saokat Molla)
শওকত মোল্লাকে ১৯ জুন আদালতে তোলার কথা থাকলেও তাঁকে আগাম হাজির করানো হয়। এনআইএ তাঁর বিচারবিভাগীয় হেফাজতের আবেদন জানায় এবং প্রেসিডেন্সি জেল ছাড়া অন্য কোনও সংশোধনাগারে রাখার আর্জিও জানায়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এটি নিরাপত্তাজনিত কারণেই করা হয়েছে। তবে আদালতে এনআইএর বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন শওকতের আইনজীবী। তাঁর দাবি, তদন্তে এখনও পর্যন্ত শওকতের বিরুদ্ধে কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি এনআইএ যখন মামলার এফআইআর দায়ের করেছিল, তখন কেন শওকতের নাম উল্লেখ করা হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এর জবাবে এনআইএর আইনজীবী দাবি করেন, গ্রেফতার করতে যাওয়ার সময় শওকত মোল্লা বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ভাঙড় বিস্ফোরণের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনও অপরাধ নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটের আগে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতেই বোমা তৈরির পরিকল্পনা চলছিল। সেই কারণেই মামলার তদন্তে শওকত মোল্লার ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



