Budget 2026
Bengal Liberty ;
ক্ষমতায় আসার পর সোমবার বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে (Budget 2026)। সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা থেকে শিল্পে বিনিয়োগ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ হতে চলেছে সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের। কোটি কোটি রাজ্যবাসীর প্রত্যাশা ও কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের প্রথম বাজেট। গত বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। আগামীকাল, সোমবার দুপুর ১২টায় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বিধানসভায় পেশ করবেন নতুন সরকারের প্রথম বাজেট। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এটিই হবে তাদের প্রথম আর্থিক রূপরেখা। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই বাজেটকে ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে।
তৃণমূল জামানায় পেশ করা অন্তর্বর্তী বাজেটে দেখা গিয়েছে, ২০২৬ – ‘২৭ এর আর্থিক ঋণের পরিমান বেড়ে দাঁড়াতে চলেছিল ৮.১৫ লক্ষ কোটি টাকা। রাজ্যের এই দুর্দশাগ্রস্থ পরিস্থিতিতে আগামীকাল বাজেটে কি জাদু করতে চলেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী, সেটাই এখন দেখার।
সুদের বোঝা
রাজ্যে ঋণের সবচেয়ে ভয়ানক দিকটি হল সুদের বোঝা। বাংলার সুদের হার অন্য রাজ্যের তুলনায় বহুগুণ বেশি। নীতি আয়োগের রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবাংলার আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ সুদেই চলে যায়। ফলে, উন্নয়নমূলক কাজে সরকারের হাত টান পড়ছে।
অতিরিক্ত ধারের পরিমাণ
বিজেপি সরকারের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হল প্রায় ঋণ ও সুদ সহ রাজ্যকে বিপুল পরিমান দেনা মেটাতে হবে। গত পনেরো বছরে তৃণমূল সরকার ভাতা ও সামাজিক প্রকল্পে অতিরিক্ত টাকা খরচ করেছিল। ফলে, রাজ্যের আর্থিক উন্নতি তলানিতে ঠেকেছে। রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন কোন নতুন দিশা দেখাতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়।

তবে বাজেটে যে সমস্ত চমক আসতে পারে –
১. আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য আর্থিক ঘাটতি কমাতে সুনির্দিষ্ট একটি রোডম্যাপ বানাতে হবে। তাছাড়া অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে হবে। এই ব্যাপারে প্রশাসনিক কঠোর নির্দেশিকা জারি করতে হবে রাজ্যকে।
২. রোজগার বাড়ানোর দিকে নজরদারি বাড়াতে হবে রাজ্য সরকারকে। বিভিন্ন সিন্ডিকেট, দুর্নীতিমূলক কাজের মাধ্যমে টাকা বেহাত হওয়া রুখতে হবে।
৩. নতুন শিল্প, কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রয়োজন। শিল্প বিনিয়োগে রাজ্যের মূল ৪টি অঞ্চলের দিকে নজর দেওয়ার কথা ঘোষণা হতে পারে। কলকাতা মেট্রোপলিটন অঞ্চলে প্রযুক্তিগত ও ফিনান্স হাব বৃদ্ধি করা, দুর্গাপুর আসানসোলে ভারী শিল্প, হলদিয়া অঞ্চলে বন্দরভিত্তিক শিল্প, শিলিগুড়িতে প্রতিবেশী দেশগুলির আমদানি ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ভাবনা বাজেটের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
৪. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ ঘটানো থেকে রাজ্যে কর্মসংস্থান বিকাশের সম্ভব।
৫. কেন্দ্রের বিবিধ প্রকল্প যেমন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, সড়ক যোজনা সহ একাধিক প্রকল্প যা এতদিন আটকে ছিল, সেগুলো নতুন করে বরাদ্দের সম্ভবনা রয়েছে।
৬. উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বিশেষ নজরদারি করতে হবে। তিস্তা নদীর জলকে ব্যবহার করে মেগা প্রজেক্ট ঘোষণা সম্ভব হতে পারে। উত্তরবঙ্গকে ইকো ট্যুরিজম ও পর্যটন করিডোরের ঘোষণার সম্ভবনা রয়েছে।
৭. রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের DA বৃদ্ধির সম্ভাবনা ২০ শতাংশ।
ভাতা নির্ভর নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিজেপি সরকারের মূল লক্ষ্য। নির্বাচনের আগে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, পরিকাঠামোর উন্নয়ন, কৃষি ও সামাজিক কল্যাণে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সেই প্রতিশ্রুতিগুলির প্রতিফলন এবার বাজেটে কতটা দেখা যাবে, সেদিকেই নজর সকলের। পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের মহার্ঘভাতা সংক্রান্ত দাবির বিষয়েও কোনও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হয় কি না, তা নিয়েও জল্পনা তীব্র।


