Bharat Bhushan Tiwari
Bengal Liberty: বিহারের ভোজপুর জেলায় ২৮ বছর বয়সী সমাজকর্মী ভারত ভূষণ তিওয়ারির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশি ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানোর ফল বলে দাবি করলেও, পরিবারের অভিযোগ এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে প্রাক্তন বিচারপতি বিনোদ কুমার সিনহার নেতৃত্বে বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
পরিবারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ (Bharat Bhushan Tiwari)
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ভারত ভূষণ তিওয়ারির মা আশা দেবী তদন্তকারী দলের কাছে তাঁর বয়ান রেকর্ড করেছেন। পরিবারের দাবি, ভারত ভূষণ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে সম্মত হয়েছিলেন এবং নিজের অস্ত্রও ফেলে দিয়েছিলেন। এরপরও পুলিশ তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়ে একটি গর্তে ফেলে কাছ থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর মা।

প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য (Bharat Bhushan Tiwari)
ঘটনার পর বিহার সরকার বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ভোজপুর পুলিশ এক এসডিপিও (SDPO) ও এক এসএইচও (SHO)-র বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে। পাশাপাশি কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে পাঁচ পুলিশকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিহারের প্রাক্তন ডিজিপি অভয়ানন্দ এই ঘটনাকে ‘এনকাউন্টার’ নয়, বরং ‘খুন’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, পুলিশের এই ভূমিকা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, ঘটনার সময় সম্প্রচারিত একটি ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে দেখা যায় যে, তিওয়ারি অস্ত্র ফেলে দেওয়ার পরও পুলিশ গুলি চালায়। যদি ভিডিওটির সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে তা পুলিশের আত্মরক্ষার দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

ঘটনার পটভূমি (Bharat Bhushan Tiwari)
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন পুলিশের সঙ্গে প্রায় দু’দিন ধরে চলা এক উত্তেজনাপূর্ণ অচলাবস্থার পর ভারত ভূষণ তিওয়ারির মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, ভোজপুরে বন্যাত্রাণ বণ্টন নিয়ে সরব হওয়ায় তিনি স্থানীয় প্রশাসনের রোষানলে পড়েছিলেন। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি ছিল যে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তবে পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এখন বিচারবিভাগীয় তদন্তে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে কি না এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।


