Dhanmondi 32 Attack
Bengal Liberty, নয়ন বিশ্বাস রকি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সমাজসেবক, বাংলাদেশ: কোন অন্ধকারই চিরকাল স্থায়ী হয় না, কোন দুর্যোগই অনন্তকালের জন্য নয়। রাত যত গভীর হয়, প্রভাত তত কাছে চলে আসে। এই বাংলার মাটি আর মানুষ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের(Dhanmondi 32 Attack) মধ্য দিয়ে জন্ম নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধই আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি। যতই অপচেষ্টা হোক না কেন, ইতিহাসকে কখনো মুছে ফেলা যায় না—ইতিহাস আপন গতিতেই বারবার ফিরে আসে।

প্রিয় দেশবাসী, অচিরেই রাজপথে আবার দেখা হবে।মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সর্বস্তরের সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের সাথে নিয়ে আমরা বিজয়ের বেশে ফিরব, ইনশাআল্লাহ। এটি একটি চিরন্তন সত্য যে—দেশরত্ন শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভানেত্রী এবং পাঁচবারের সফল প্রধানমন্ত্রী, তাঁর দ্বিতীয় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতভাবেই ঘটবে।
ধ্বংসস্তূপে রূপান্তর (Dhanmondi 32 Attack): স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আজ কোথায়?
বিগত দুটি বছর জাতি প্রত্যক্ষ করেছে কীভাবে একটি গোছানো, সমৃদ্ধ ও উন্নয়নশীল বাংলাদেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে। আজ দেশে মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই; চারদিকে শুধু নৈরাজ্য আর অস্থিতিশীলতা। নদী-নালা, খাল-বিলে এখন মানুষের লাশ ভাসছে। আজ দেশবাসীর কাছে তীব্র প্রশ্ন—এই কি আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ?

‘বৈষম্যবিরোধী কোটা আন্দোলন’—নামের আড়ালে যা ঘটানো হয়েছে, তা ছিল মূলত দেশ ও জাতির সাথে এক চরম প্রতারণা। এর আড়ালে শুরু হয়েছে লুটপাটের মহোৎসব। সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও নির্বিচার লুটপাট চালানো হচ্ছে অবাধে।
ধানমন্ডি ৩২(Dhanmondi 32 Attack): বাঙালির হৃদয়ে এবং ইতিহাসের সূতিকাগারে আঘাত
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি শুধু একটি ভবন নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের আবেগের সম্পদ। অথচ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়, ড. ইউনূসের মব-সন্ত্রাসীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে বাড়িটি ভেঙে উড়িয়ে দিয়েছে।

প্রশ্ন হলো—এই বাড়িটির প্রতি তাদের এত প্রতিহিংসা কেন? বাড়িটি তাদের কী ক্ষতি করেছিল? মূলত স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি আজ ধর্মের নামে ব্যবসা করে এবং মিথ্যা বয়ান দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তবে তাদের আসল চরিত্র আজ দেশবাসীর কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার।
অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও সুইস ব্যাংকে অর্থ পাচারের নতুন রেকর্ড (Dhanmondi 32 Attack)
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি আজ পুরোপুরি ভঙ্গুর। বিদেশিরা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, ফলে বিনিয়োগে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং লক্ষ লক্ষ তরুণ আজ বেকার। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ২০২৬ সালে এসে মূল্যস্ফীতি ৯% ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির দাম দফায় দফায় বাড়িয়ে জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অথচ এই চরম সংকটের মাঝেই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ২০২৫ সালে এক লাফে ৪১% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৪.২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ১২,৭৬৩ কোটি টাকায়! SNB (Swiss National Bank)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি ২০২১ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমানত। ব্যাংকের নামে এই টাকার ৯৮.৬% গেলেও, বৈধ পথে বিদেশে অর্থ রাখার সুযোগ না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটিই প্রশ্নবিদ্ধ। আগে যারা “শেখ হাসিনার আমলে পাচার” বলে গলা ফাটাতেন, এখন ইউনূস আমলে কয়েকগুণ বেশি টাকা বিদেশে যাওয়ার পরও তাদের প্রচারের সুর এত নরম কেন?
আইনের শাসনের নামে প্রহসন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন (Dhanmondi 32 Attack)
আজ দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে মিথ্যা মামলার এক ঘৃণ্য বাণিজ্য। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমনকি জেলখানা থেকেও লাশ হয়ে ফিরছেন আমাদের নেতা-কর্মীরা; কারাগারের ভেতরে চলছে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। শুধু “জয় বাংলা” বলা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সমর্থন করার অপরাধে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব কেড়ে নিয়ে তাদের জীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

যারা আজ ক্ষমতার রঙিন চশমা পরে অন্ধ হয়ে আছেন, তাদের হুঁশিয়ার করে বলতে চাই—বাংলার মানুষের কাঠগড়ায় আপনাদের দাঁড়াতেই হবে এবং প্রতিটি অন্যায়ের জবাব দিতে হবে। এই বাংলার মাটিতেই একদিন সব জুলুমের সুষ্ঠু বিচার হবে।
অতীতে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব বক্তৃতায় মুখে ফেনা তুলতেন “আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা” নিয়ে। আজ সেই গালভরা কথাগুলো কোথায় হারিয়ে গেল? নাকি সেগুলো এখন আইসিইউতে চলে গেছে?
পাকিস্তানি ভাবধারা কায়েম এবং ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র (Dhanmondi 32 Attack)
দেশরত্ন শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কিংবা ১০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল—এই অভাবনীয় উন্নয়ন এই কুচক্রী মহল সহ্য করতে পারছে না। তাই তারা গণতন্ত্রের লেবাসে দেশে পাকিস্তানি ভাবধারা কায়েম করতে চায়; মুছে ফেলতে চায় আমাদের লাল-সবুজের পতাকা আর মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা।

বাংলাদেশের এমন কোনো প্রান্ত নেই যেখানে এই হায়েনারা আক্রমণ চালায়নি। রাষ্ট্রীয় যন্ত্রকে ব্যবহার করে হুমকি, ভয় প্রদর্শন এবং নির্যাতন-জুলুমের এক চরম দুঃশাসন কায়েম করা হয়েছে।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান (Dhanmondi 32 Attack): ঐক্যবদ্ধ হোন, গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন
এই অপশক্তি প্রতিনিয়ত মিথ্যা বলে জাতির সাথে প্রতারণা করছে এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এবং দেশের গৌরবময় ইতিহাস-ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হলে এখনই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত হতে হবে। প্রত্যেক এলাকায়, প্রত্যেক মহল্লায় এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
মনে রাখবেন—অন্ধকার যতই দীর্ঘ ও গভীর হোক না কেন, সূর্য একদিন উদিত হবেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে, দেশরত্ন শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়াবে। চূড়ান্ত বিজয় আমাদের হবেই।
আরও পড়ুন:
চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত রাজপথে থাকব


