West Bengal SIR
Bengal Liberty: বিতর্ককে সঙ্গী করেই রাজ্যে শুরু হল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর। শাসকদল থেকে বিরোধীরা এসআইআর প্রক্রিয়ার পদ্ধতি নিয়ে যখন প্রশ্ন তুলছেন, সেই আবহে শুরুর দিনেই রাজ্যজুড়ে প্রায় ১৭ লক্ষ এনুমারেশন ফর্ম বিলি হল। মঙ্গলবার থেকেই বিএলও-রা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করেন। এই প্রক্রিয়া চলবে ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত। মঙ্গলবার সকাল থেকে একটু ঢিলেমি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এনুমারেশন ফর্ম বিলির সংখ্যা বাড়তে থাকে। সিইও দপ্তর সূত্রে সর্বশেষ পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ১৮ লক্ষের বেশি এনুমারেশন ফর্ম গোটা রাজ্যজুড়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিলি করেছেন বিএলও-রা। এরই মধ্যে এসআইআর’র কাজ খতিয়ে দেখতে আজ বুধবার বঙ্গ সফরে আসছেন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। তার সঙ্গে থাকছেন নির্বাচন কমিশনের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এস.বি জোশি ও ডেপুটি সেক্রেটারি অভিষেক আগরওয়াল। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে থাকবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালও। বুধবার উত্তরবঙ্গের বাগডোগরা পৌঁছে কমিশনের প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানাবেন সিইও। সেখান থেকেই সরাসরিই তাঁরা যাবেন আলিপুরদুয়ারে। বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারে প্রথম বৈঠক করবেন তাঁরা। এরপর যাবেন কোচবিহার। সেখানেও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করবেন নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা। কোচবিহার থেকেই কলকাতায় ফিরবেন সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। শুক্রবার কমিশনের তিন প্রতিনিধি জলপাইগুড়িতে এসআইআর’র কাজ খতিয়ে দেখবেন।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই এসআইআর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এসেছিলেন সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। ওইদিন রাজ্যের সমস্ত জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য উত্তরবঙ্গের জেলা গুলিকে বাদ রাখা হয়েছিল। জানানো হয়েছে তো পরবর্তী সময় এই বৈঠক হবে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উত্তরবঙ্গে গিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কমিশনের প্রতিনিধিরা বৈঠক করবেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে, বুধবার উত্তরবঙ্গ সফরে কমিশনের প্রতিনিধিরা। ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সাধারণ যে সব ভোটারদের নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে এসআইআর’র জন্য যে সমস্ত স্বীকৃত নথির প্রয়োজন সেগুলো কতটা বাস্তবায়িত করা সম্ভব সেই বিষয়গুলি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বসে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেবেন প্রতিনিধি দল। পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবেন তাঁরা।
মূলত পূর্ব ঘোষণা অনুসারে মঙ্গলবার থেকে রাজ্যজুড়ে কাগজে-কলমে এস আই আর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার নির্দেশিকা অনুসারে বিএলও’রা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের হাতে দুই কপি করে এনুমারেশন ফর্ম তুলে দেন। এনুমারেশন ফর্মে সমস্ত বৈধ তথ্যগুলি দিয়ে ভোটার ফিলাপ করবেন। এরপর কম অন্যদিন সেই এনুমারেশন ফর্ম নিতে যাবেন বিএলও’রা। এনুমারেশন ফর্মের একটি কপি রিসিভ করে ভোটারদের হাতে তুলে দেবেন বিএলও’রা। অন্য কপিটির তথ্য অনুসারে ইআরও নেট-এ লিপিবদ্ধ করা হবে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাদের বাবা-মা অথবা নিজের নাম রয়েছে অথবা যদি নাও থাকে তাঁদেরএনুমারেশন ফর্মের সঙ্গে কোনো তথ্য প্রমাণ দিতে হবে না। যদি তাঁকে ডাকা হয় তখনি তথ্য প্রমাণের প্রয়োজন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যে ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন ভোটারের কাছে বিলি বন্টন সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশাবাদী সিইও দপ্তরের কর্তারা। এনুমারেশন ফর্ম পাওয়া নিয়ে কোনও সমস্যা, অথবা তা ফিলাপের জন্য কোন জটিলতা থাকলে ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের হেল্প ডেস্কের সাহায্য নিতে পারবেন। ইতিমধ্যেই প্রতি জেলাতে ত্রিস্তরীয় হেল্প ডেস্কের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা স্তর থেকে শুরু করে মহকুমা ও ব্লক স্তরেও নির্বাচন কমিশন কর্তৃক হেল্প ডেস্ক থাকছে। টোল ফ্রি নম্বর-এর মাধ্যমে হেল্প ডেস্কের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যাবে।

