US strikes Iran
Bengal Liberty: হরমুজ প্রণালীতে একটি কার্গো জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনার জেরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে। বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এভার লাভলি’-তে একটি ড্রোন হামলার ঘটনার পর, শুক্রবার ইরানকে কড়া জবাব দিতে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

কী ঘটেছে? (US strikes Iran)
বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালীতে ‘এভার লাভলি’ নামক জাহাজটি আক্রান্ত হওয়ার পর, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে। এর প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার আমেরিকার সামরিক বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্টোরেজ এবং উপকূলীয় রাডার কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। আমেরিকার দাবি, এই হামলা ছিল ইরানের ড্রোনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার এক শক্তিশালী ও সরাসরি জবাব।

কেন এই সংঘাত? (US strikes Iran)
আমেরিকার অভিযোগ, ইরান তাদের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথে অন্যায় বাধা সৃষ্টি করছে, যা ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, আমেরিকা বিনা উসকানিতেই ইরানের উপকূলে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং এর পাল্টা জবাব হিসেবে তারাও ইরানের নৌবাহিনীকে দিয়ে ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়েছে।

চুক্তির ভবিষ্যৎ কী? (US strikes Iran)
উত্তেজনা প্রশমনে গত ১৭ জুন আমেরিকা ও ইরান একটি ১৪ দফা চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল, যেখানে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সেই যুদ্ধবিরতি কার্যত ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই হামলা পছন্দ করেননি এবং ইরানের আচরণ সম্পর্কে তিনি সতর্ক রয়েছেন। ইরানও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং আলোচনার মধ্যে পুনরায় আক্রমণের অভিযোগ তুলেছেন তাদের কর্মকর্তারা।

জাহাজের পরিস্থিতি (US strikes Iran)
সংস্থা ‘এভারগ্রিন’-এর মালিকানাধীন সিঙ্গাপুরের জাহাজ ‘এভার লাভলি’ ওই এলাকায় হামলার শিকার হলেও, জাহাজের সব কর্মী বর্তমানে নিরাপদ আছেন এবং জাহাজের কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এই ঘটনার জেরে বর্তমানে ওই এলাকায় ১১ হাজারেরও বেশি নাবিকের উদ্ধারকাজ বা ইভাকুয়েশন প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রেখেছে জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO)।
এখন দেখার বিষয়, এই সংঘাত আলোচনার টেবিলে আবার ফিরে আসে, নাকি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হয়।


