Janatar Darbar
Bengal Liberty: ২০১৩ সালে এক কলেজছাত্রীকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে কামদুনির বাসিন্দারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যান। যদিও পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আদালত দোষীদের ফাঁসি না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। কিন্তু এই বিচারে সন্তুষ্ট হতে পারেনি নির্যাতিতার পরিবার।
তাদের অভিযোগ, সেই সময় আন্দোলনকে ‘মাওবাদী প্রভাবিত’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল এবং পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকিও দেওয়া হয়। এমনকি ধর্ষকদের পরিবারকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেইসব স্মৃতির কথা উল্লেখ করে আবারও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কামদুনি নির্যাতিতার ভাই।

‘দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই’ (Janatar Darbar)
সম্প্রতি বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের পর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ উপস্থিত হন কামদুনি নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা। সাক্ষাৎকারে নির্যাতিতার ভাই দাবি করেন, মামলার মূল অভিযুক্তরা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেলেও তাঁদের পরিবার সেই রায়ে সন্তুষ্ট নয় (Janatar Darbar)। অপরাধের নৃশংসতার কথা বিবেচনা করে দোষীদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল বলে তাঁরা মনে করেন। দিদির ওপর হওয়া অমানুষিক অত্যাচারের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, সেই সময় ধর্ষকদের দেওয়া পুলিশি নিরাপত্তা এবং তৎকালীন শাসকদলের একাংশের হুমকির বিষয়গুলি তিনি নামসহ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জানাবেন।

তৎকালীন প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা (Janatar Darbar)
নির্যাতিতার পরিবারের আরও অভিযোগ, আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রশাসন আন্দোলনকে স্তিমিত করার চেষ্টা করেছিল। এছাড়া ধর্ষণ সংক্রান্ত তৎকালীন কিছু বিতর্কিত মন্তব্যেও তাঁরা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, তৎকালীন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো একাধিক নেতার পক্ষ থেকে তাঁদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এই সমস্ত অভিযোগই আজ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানান নির্যাতিতার ভাই।

পরিবারের সদস্যদের আরও অভিযোগ, অতীতে নবান্নে দেখা করতে গিয়ে প্রতিবাদ করায় নির্যাতিতার ভাইকে পুলিশকে দিয়ে আটক করানোর ঘটনাও ঘটেছিল। সেই সময় প্রশাসনের কাছ থেকে তাঁরা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। নির্যাতিতার ভাই জানান, শুভেন্দু অধিকারী যখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন, তখন আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তাঁরা ক্ষমতায় এলে এই বিচারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করাতেই আজ তাঁরা জনতার দরবারে এসেছেন। তাঁদের একমাত্র দাবি, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হোক এবং দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ক্ষোভ ও বেদনার যেন ন্যায্য বিচার মেলে।

