Bengal Liberty : চিনার পার্কে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাড়ির আশপাশে একাধিকবার রেকি করতে গিয়েছিল জঙ্গি-যোগের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বর্ধমানের হামিম মণ্ডল (CM Suvendu Adhikari)। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) সূত্রে খবর, ধৃতের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করতে গিয়েই এই তথ্য সামনে এসেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রথমে হামিম তা অস্বীকার করে। তবে তদন্তকারীদের দাবি, পরে জেরার মুখে সে স্বীকার করে যে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির আশপাশে একাধিকবার রেকি করেছিল। গোটা এলাকা সিসিটিভির কড়া নজরদারিতে থাকায় সে ছবি তোলার সাহস পায়নি। একই সঙ্গে রাজ্যে আরও একটি সমান্তরাল জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না গোয়েন্দারা (CM Suvendu Adhikari)।

মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে একাধিকবার রেকি (CM Suvendu Adhikari)
জঙ্গি-যোগের অভিযোগে গ্রেফতার হামিম মণ্ডলকে জেরা করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্যের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর গতিবিধির ওপর নজর রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল হামিমকে। তদন্তে জানা যায়, শুভেন্দু অধিকারীর চিনার পার্কের বাড়ির আশপাশে একাধিকবার রেকি করেছিল সে। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের রাস্তাগুলিও খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন বিশ্লেষণ করে হামিমের গতিবিধির প্রমাণ পান তদন্তকারীরা। প্রথমে সে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে জেরার মুখে রেকি করার কথা স্বীকার করে। এসটিএফের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ছবি তোলার পরিকল্পনাও ছিল হামিমের। কিন্তু চারপাশে সিসিটিভির কড়া নজরদারি থাকায় ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেনি। জেরায় হামিম জানিয়েছে, পাকিস্তানে থাকা তার হ্যান্ডলাররা বিশেষভাবে সতর্ক করেছিল, যাতে ছবি বা ভিডিও তোলার সময় কোনওভাবেই সিসিটিভিতে ধরা না পড়ে।

আইএসআই-যোগের অভিযোগ (CM Suvendu Adhikari)
এই মামলায় হামিম মণ্ডলের পাশাপাশি তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিংহ ওরফে রাজকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। পশ্চিমবঙ্গে নাশকতামূলক হামলার ছক কষা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, অর্পিতাকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। অভিযোগ, নেতা, মন্ত্রী ও আমলাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল।
আরও খবর

এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, হত্যাকাণ্ড ও নাশকতার মাধ্যমে রাজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি হামিম ছাড়াও অন্য ব্যক্তিদের ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গে একটি সমান্তরাল জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/08/04/chandra-kumar-bose/


