Bengal Liberty : বদলের বাংলায় স্বাধীনতার মাস যেন পেল নতুন রাজনৈতিক তাৎপর্য (CM Suvendu Adhikari)। বহু বছর ধরে কেন্দ্রের উদ্যোগে পালিত হলেও পশ্চিমবঙ্গে কার্যত উপেক্ষিত ছিল ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি। সরকার পরিবর্তনের পর এবার প্রথমবার রাজ্যজুড়ে সেই কর্মসূচিকে ঘিরে মেগা উদযাপনের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে শুভেন্দুর ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির টপ প্রায়োরিটিতে ছিলেন স্বয়ং নেতাজি। শুক্রবার ভবানীপুরে তিরঙ্গা যাত্রার নেতৃত্ব দিয়ে তিনি শুধু জাতীয় পতাকার বার্তাকেই সামনে আনেননি, শোভাযাত্রার প্রথম সারিতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে প্রাধান্য দিয়ে স্পষ্ট করেছেন, জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে কোনও বিতর্কিত মন্তব্য নয়, বাংলার প্রেরণা নেতাজির আদর্শই। অনন্ত মহারাজের বিতর্কিত মন্তব্যের পর প্রকাশ্যেই একাধিক বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। এবার তাঁর মন্তব্যকে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বও যে সমর্থন করছেন না তা স্পষ্ট করলেন এদিনের মিছিলেই (CM Suvendu Adhikari)।

কী বলেছিলেন অনন্ত মহারাজ? (CM Suvendu Adhikari)
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তাঁর দাবি, “শুধু মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে, এই ধারণা সঠিক নয়। কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকাও ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন।” এখানেই থেমে না থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়েও বিতর্কিত দাবি করেন তিনি। অনন্ত মহারাজের বক্তব্য, “জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়।” এরপর তিনি আরও বলেন, “নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন।” ব্রিটিশ শাসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, “আজ যদি আমি সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিই, তা হলে আমাকে এনকাউন্টার করা হবে। ব্রিটিশ আমলেও আইন ছিল।” এছাড়াও তাঁর দাবি, “কোচবিহারের মহারাজাকে যদি স্বাধীন ভারতের সম্রাট করা হতো, তবে দেশভাগ হতো না। ভারত ও পাকিস্তান এক থাকত।”

উল্লেখ্য, অনন্ত মহারাজের এই বক্তব্যের পর শুধু মাত্র বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব দূরত্ব বজায় রাখছেন তাই নয়, তাঁর বক্তব্যকে ‘নেতাজির অপমান’ আখ্যা দিয়ে এবার বিধানসভায় নিন্দা-প্রস্তাব জমা দিলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রীর মিছিলে নেতাজিকে সামনের আসনে বসানোই অনন্ত মহারাজ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হল।
আরও খবর

আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/08/06/naushad-siddiqui-11/


