Bengal Liberty
আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রাজ্যসভার সাংসদ হরভজন সিং (Harbhajan Singh)। তাঁর দলবদল ঘিরে কম বিতর্ক হয়নি। আপ ছাড়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগও উঠেছিল। এমনকি জলন্ধরে তাঁর বাড়ির সামনেও বিক্ষোভ দেখানো হয়। এ বার নিজের দলবদলের কারণ স্পষ্ট করলেন হরভজন। ২০২২ সালে আম আদমি পার্টির হয়ে রাজ্যসভায় যান হরভজন। চলতি বছরের এপ্রিলে আরও ছয় রাজ্যসভার সদস্যের সঙ্গে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।

কেন আপ ছাড়লেন হরভজন? Harbhajan Singh
হরভজনের দাবি, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান তাঁকে আপে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। রাজ্যসভায় দলের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি খেলাধুলা সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বদলে পাঞ্জাব ও জাতীয় স্তরে খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করতে চেয়েছিলেন তিনি। হরভজন বলেন, আপে যোগ দেওয়ার সময়ই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে চান না। খেলাধুলার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার জন্য একাধিক পরিকল্পনাও দলের সামনে রেখেছিলেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, সেই প্রস্তাবগুলির কোনওটিই গুরুত্ব পায়নি। এমনকি তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী সামান্য কোনও পদক্ষেপ করা হলেও তিনি দল ছাড়তেন না বলে জানান। তাঁর কথায়, “যে উদ্দেশ্যে আপে যোগ দিয়েছিলাম, সেটিই পূরণ হচ্ছিল না। বারবার চেষ্টা করেও কোনও সাড়া পাইনি। শেষ পর্যন্ত দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হই।”

খেলাধুলাই ছিল মূল লক্ষ্য
দল ছাড়ার পর আপের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ ওঠে। জলন্ধরে তাঁর বাড়ির সামনেও বিক্ষোভ হয় বলে জানান হরভজন। তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারীরা কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর পাশাপাশি বাড়ির বাইরে ‘বিশ্বাসঘাতক’ লেখা হয়েছিল। তবে আন্দোলনকারীদের নাম সরাসরি বলতে চাননি প্রাক্তন ক্রিকেটার। পাল্টা প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ক্রিকেটের জন্য সাধারণ মানুষের এত ভালোবাসা পাওয়ার পর তাঁকে কেন এ ভাবে আক্রমণ করা হবে? আপের উদ্দেশে পাঞ্জাববাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির হিসাবও চান তিনি।
আরও খবর

হরভজনের বক্তব্য, “কাউকে বিশ্বাসঘাতক বললেই আমি বিশ্বাসঘাতক হয়ে যাব না। কাউকে চোর বললেই সে চোর হয়ে যায় না। দেশ এবং পাঞ্জাবের প্রতি আমার ভালোবাসার জন্য কারও শংসাপত্রের প্রয়োজন নেই।” সাক্ষাৎকারে পাঞ্জাবের মাদক সমস্যার বিষয়টিও উঠে আসে। হরভজনের মতে, একসময় খেলাধুলায় দেশের অন্যতম এগিয়ে থাকা রাজ্য ছিল পাঞ্জাব। সানসারপুরের মতো ছোট গ্রাম থেকেও একসময় জাতীয় হকি দলে একাধিক খেলোয়াড় উঠে এসেছেন। কিন্তু বর্তমানে মাদকের সহজলভ্যতা যুবসমাজকে ধ্বংস করছে বলে অভিযোগ তাঁর।
জলন্ধরের সুরজিত সিং হকি অ্যাকাডেমির প্রসঙ্গ তুলে হরভজন বলেন, যে এলাকায় মাদক ঢুকে পড়ে, সেখানে একের পর এক প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সীমান্তবর্তী রাজ্য হওয়ায় পাঞ্জাবের পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মাদক কী ভাবে রাজ্যে ঢুকছে, তার উৎস খুঁজে বের করার পাশাপাশি পাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং আরও শক্ত আইন করার পক্ষেও সওয়াল করেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার। তাঁর মতে, পাঞ্জাবের যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে হলে সমস্যার মূল জায়গায় আঘাত করতে হবে।


