Bengal Liberty
স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশজুড়ে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী (Amit Shah)। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর মদতপুষ্ট বলে অভিযোগ থাকা ‘শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক’-এর বিরুদ্ধে ১৪টি রাজ্যে একযোগে অভিযান চালানো হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, এই অভিযানে ২০০-র বেশি সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নাশকতার একাধিক পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে।

ধ্বংসের দাবি অমিত শাহের Amit Shah
সোমবার সমাজমাধ্যমে অমিত শাহ জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার স্বাধীনতা দিবসের আগে আইএসআই-সমর্থিত এই জঙ্গি নেটওয়ার্ককে ধ্বংস করেছে। তাঁর দাবি, ১৪টি রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান ভারতের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

আরও খবর
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED), পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির চিহ্নযুক্ত গ্রেনেড, পিস্তল, তাজা কার্তুজ এবং গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামেরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের সঙ্গে আইইডি ও পেট্রোল বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা এবং টার্গেটেড কিলিংয়ের মতো একাধিক সন্ত্রাসী কার্যকলাপের যোগ রয়েছে। পুলিশ, প্রতিরক্ষা ও ধর্মীয় স্থানের রেকি করার জন্য স্থানীয় ব্যক্তিদের অর্থ দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে এই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে। এমনকি নজরদারি চালানোর জন্য বিভিন্ন জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজও করা হত বলে জানা গিয়েছে।
গত ১২ অগস্ট রাজ্য পুলিশের সঙ্গে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নিয়ে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। ১৪টি রাজ্যে মোট ২৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরপ্রদেশে ৬২, হরিয়ানায় ৫২, দিল্লিতে ৫১, পাঞ্জাবে ৪৪, রাজস্থানে ১৫ এবং মহারাষ্ট্রে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় ৮০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে।
‘জিরো টলারেন্স’ নীতি
অভিযানের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের যোগও সামনে এসেছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে সন্দেহভাজন এক পাকিস্তানি নাগরিক-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলম পাকিস্তানের ফয়সলাবাদের বাসিন্দা বলে দাবি পুলিশের। উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে কলকাতার তপসিয়া থেকে মহম্মদ ইজাজ নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়াও কোচবিহার জেলা থেকে আইএসআই-এর সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যখন আরও জোরদার করা হয়েছে, তখন এই ধারাবাহিক অভিযানে বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা বানচাল করার দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।


