C V Ananda Bose at Gita path
Bengal Liberty Desk, ৬ ডিসেম্বর, কলকাতা: ‘হরেকৃষ্ণ হরে হরে, গীতাপাঠ ঘরে ঘরে’। ‘হরিনাম’ থেকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান, এসবের মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হল গীতাপাঠের (Gita Chanting) অনুষ্ঠান।

কী কী হল অনুষ্ঠানে? (Gita path at Kolkata)
গীতার সাতশো শ্লোকের মধ্যে প্রথম, নবম ও অষ্টাদশ অধ্যায়ের ১৫৮টি শ্লোক পাঠ করলেন সনাতনীরা। আজ, রবিবার ব্রিগেড ময়দানে (Brigade Ground) সম্পন্ন হল ‘পাঁচ লক্ষ কন্ঠে গীতাপাঠ’। রাজ্য তথা গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজির হয়েছিলেন সাধুসন্ত থেকে মহারাজরা। এই মহা কর্মযজ্ঞের সাক্ষ্মী থাকতে অনুষ্ঠানে হাজির হন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। রবিবার দুপুরে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সনাতন সংস্কৃতি সংসদের আয়োজিত গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (Governor C. V. Ananda Bose)। শুধু অনুষ্ঠানে যোগদানই নয়, মঞ্চে উঠে রীতিমতো মাইক্রোফোনের সামনে সংস্কৃত উচ্চারণে গীতাপাঠও করলেন রাজ্যপাল। গীতা থেকে মহাভারতের অংশ শোনালেন তিনি।

কী বললেন রাজ্যপাল? (CV Anand Bose)
রাজ্যপাল বলেন, ‘শ্রীকৃষ্ণ বার বার অর্জুনকে বলতেন, কর্ম করে যাও। আজ বাংলা কাজ করার জন্য প্রস্তুত।’ মঞ্চে উঠে রাজ্যপাল গীতা থেকে মহাভারতের নানা প্রসঙ্গ স্মরণ করিয়ে দেন এদিন। তিনি শুধু গ্রন্থ উদ্ধৃতিই করেননি, বরং মহাভারতের শিক্ষাকে বর্তমান সময়ের সঙ্গে যুক্ত করে এক বিশেষ বার্তাও তুলে ধরেছেন।
তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত দর্শকদের মাঝে আলোচনার নতুন দিক খুলে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। অনেকেই মনে করেন, তিনি বাংলার মানবিক শক্তি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং কাজের ক্ষমতা সম্পর্কে আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন। অপরদিকে, তাঁর বক্তব্যের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি সুর চড়ানোও লক্ষ্য করা গিয়েছে। রাজ্যপালের কথায়, ‘আজকের সমাজে ভ্রষ্টাচার, অন্যায় এবং নৈতিক দুর্বলতা যেভাবে বাড়ছে, তা রুখতে হলে গীতার বাণী প্রাসঙ্গিক।’ তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য ধার্মিক মূল্যবোধ এবং মানবিক শক্তি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।’ এজন্যই তিনি গীতার শিক্ষাকে আধুনিক সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করেন এদিন।
এদিনের অনুষ্ঠানের এটাই সবচেয়ে চমকপ্রদ ছবি হয়ে রইল নিঃসন্দেহে। যদিও আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও রামদেব-সহ একাধিক ব্যক্তিত্ব আসতে পারেননি গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে। গীতাপাঠের আসরে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির নেতা-নেত্রীরা (BJP West Bengal)।

