Bengal Liberty : মধ্যরাতে নিউ মার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারপরই সামনে আসছে একের পর এক বেনিয়মের অভিযোগ। বহুতলের ভিতরে একাধিক হোটেল (Kolkata Hotel Fire)। ছোট ছোট ঘুপচি ঘর। একাধিক তলায় গাদাগাদি করে চলত গেস্ট হাউস। ছিল প্রচুর এসি। অথচ অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না বলেই প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে। প্রশ্ন উঠছে, এত বেনিয়মের পরেও কীভাবে মিলল ট্রেড লাইসেন্স? দমকলের অনুমতিই বা কোথায়? আর সবথেকে বড় প্রশ্ন, এতদিন ধরে পুরসভা-দমকল-বিদ্যুৎ সংস্থার নজর এড়িয়ে কীভাবে চলল এই ব্যবসা? ঘটনার পর বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে যান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রশাসনিক গাফিলতি এবং ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হন মন্ত্রীরা (Kolkata Hotel Fire)।

‘সিইএসসি কীভাবে অনুমতি দিল?’, অগ্নিমিত্রা পাল (Kolkata Hotel Fire)
ঘটনাস্থলে গিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর প্রশ্ন, একটি বহুতলের ভিতরে একাধিক হোটেল কীভাবে চলছিল? এতগুলি এসি চলছিল কীভাবে? সিইএসসি কীভাবে বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমতি দিল? মন্ত্রী আরও প্রশ্ন তোলেন, তৃণমূলের আমলে কলকাতা পুরসভা কীভাবে এই হোটেলগুলির ট্রেড লাইসেন্স পাশ করল? দমকলের অনুমতিই বা কীভাবে মিলল? অগ্নিমিত্রার দাবি, কলকাতা পুরসভার আওতাধীন হোটেলগুলির অডিট করা হবে। কোথায় নিয়ম মানা হয়নি, কোথায় গাফিলতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর বক্তব্যে কার্যত আগের পুরবোর্ডের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

কী বললেন দমকলমন্ত্রী? (Kolkata Hotel Fire)
ঘটনাস্থলে গিয়ে দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীও সরব হন। তাঁর অভিযোগ, এখানে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক অনিয়ম চলেছে। কীভাবে হোটেল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল? কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হল? দমকলের ফায়ার অডিট হয়েছিল কি না, ফায়ার NOC ছিল কি না, সব নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, “পূর্বতন সরকারের অভিশাপ” বহন করতে হচ্ছে। গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। তদন্তের জন্য কমিটিও গঠন করা হবে।
আরও খবর
আবাসিক বাড়ি কীভাবে হোটেল? প্রশ্ন মন্ত্রীদের (Kolkata Hotel Fire)
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও। তাঁর উপস্থিতিতে বহুতলের ব্যবহার এবং ব্যবসায়িক অনুমতির বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠকের অভিযোগ, শুধু দমকলের নিয়ম ভাঙা হয়নি। পুরো বিল্ডিং ব্যবস্থাতেই বড়সড় বেনিয়ম ছিল। তাঁর দাবি, হোটেলের ঘর বাড়াতে পিলার কেটে জায়গা তৈরি করা হয়েছিল। এর ফলে বহুতলের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।পাঠকের আরও অভিযোগ, ওই বাড়িগুলি আদতে আবাসিক ব্যবহারের জন্য ছিল। পরে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর নিশানায় কলকাতা পুরসভার তৎকালীন বোর্ড এবং স্থানীয় বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়।

ইতিমধ্যেই আগুনের উৎস, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, ফায়ার অডিট, NOC, ট্রেড লাইসেন্স এবং বহুতলের কাঠামোগত অনুমোদন, সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মৃতদের অধিকাংশই বাংলাদেশি নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। নিয়ম যদি না-ই মানা হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন ধরে কার অনুমতিতে চলছিল এই হোটেলগুলি? পূর্বতন সরকার কীভাবে অনুমতি দিয়েছিলেন?
আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/08/19/sudipta-sen/


