Bengal Liberty : কলকাতার নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটে ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে (New Market Hotel Fire)। মৃতদের মধ্যে শিশু এবং বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে বলে অনুমান দমকলের কর্মীদের। তবে রাজ্যে সদ্য প্রতিষ্ঠিত শুভেন্দুর সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে এর নেপথ্যে ‘ডিপ স্টেট’ বা জামাতি ষড়যন্ত্র বা অন্য কোনও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে কি-না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিগত সরকারের আমলের জং ধরা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাকেই এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবেও কাঠগড়ায় তুলছে বর্তমান বিজেপি সরকার (New Market Hotel Fire)।

অগ্নিকাণ্ডের মর্মান্তিক পরিণতি ও গাফিলতি (New Market Hotel Fire)
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই পাঁচতলা ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার চরম অভাব ছিল। ঘিঞ্জি এলাকা এবং ঘরগুলো খুব ছোট হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ১ শিশু ও ২ মহিলা রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চিকিৎসা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আসা বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী নাগরিক এবং ঝাড়খণ্ডের গিরিডি থেকে আসা ১৯ বছর বয়সী হোটেল কর্মী সন্দীপ পাসোয়ানও রয়েছেন। দমকলের অফিস কাছেই থাকা সত্ত্বেও সরু রাস্তার কারণে উদ্ধারকাজে ব্যাপক বাধা আসে। অভিযোগ, দীর্ঘদিনের জং ধরা প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং বিগত সরকারের আমলে দমকল ব্যবস্থার কোনও যথাযথ অডিট বা আধুনিকীকরণ না হওয়ার কারণেই এই বিপর্যয়। অতীতে আমরি , স্টিফেন কোর্ট বা মেছুয়াবাজারের মতো ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড থেকেও পূর্বতন সরকার বা প্রশাসন কোনও শিক্ষা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব! (New Market Hotel Fire)
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে সুনির্দিষ্ট তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মাত্র ১০০ দিন পূর্ণ করা বর্তমান সরকারের পক্ষে রাতারাতি আগের বাম বা তৃণমূল আমলের দীর্ঘদিনের ত্রুটিপূর্ণ সিস্টেমকে বদলানো চ্যালেঞ্জিং হলেও, প্রশাসন বিষয়টিতে তৎপর। অন্যদিকে, এই অগ্নিকাণ্ড নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে গভীর কোনও চক্রান্ত রয়েছে, তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কলকাতায় বাংলাদেশীরা নিরাপদ নন, এমন একটি ন্যারেটিভ তৈরি করে রাজ্যে অস্থিরতা ছড়াতে জামাত বা ‘ডিপ স্টেট’-এর মতো কোনও গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে এই নাশকতা চালিয়েছে কি-না, সেই সন্দেহ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। পরপর ঘটে যাওয়া এই আগুনের ঘটনাগুলোর পেছনে নাশকতা লুকিয়ে আছে কি না, তা উদঘাটন করাই এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য।
আরও খবর
আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/08/19/cm-suvendu-adhikari-142/


