Bengal Liberty, প্রাইমা হোসেন : আজকাল চারিদিকে শুধু একটাই আওয়াজ শোনা যাচ্ছে – “দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো না”। বাজারে গেলে দামের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকে গেলে ডলার সংকটের কথা, ফ্যাক্টরিতে গেলে ছাঁটাইয়ের গুঞ্জন (Bangladesh Economy)। সব মিলিয়ে লক্ষণগুলো খুব একটা ভালো দেখাচ্ছে না। মনে হচ্ছে অর্থনীতি কোথাও গিয়ে হোঁচট খাচ্ছে (Bangladesh Economy)।

দেশের অর্থনীতি সুস্থ আছে? (Bangladesh Economy)
একটা দেশের অর্থনীতি সুস্থ আছে কিনা তা বোঝা যায় সাধারণ মানুষের পকেট দিয়ে। গত ৬ মাসে চাল, তেল, ডিম থেকে শুরু করে ওষুধ – সবকিছুর দাম বেড়েছে। অথচ মানুষের আয় বাড়েনি। মধ্যবিত্ত এখন হিসাব করে বাজার করে। নিম্নবিত্ত তিনবেলা খাওয়া নিয়েই চিন্তিত। এটা কোনো সুস্থ অর্থনীতির চিত্র হতে পারে না।
ব্যাংকিং খাতের অবস্থাও উদ্বেগজনক। ডলারের দাম লাগামছাড়া। আমদানিকারকরা এলসি খুলতে পারছে না। ফলে শিল্পের কাঁচামাল আটকে যাচ্ছে। পোশাক কারখানা, যেটা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার মূল উৎস, সেখানেও অর্ডার কমে গেছে। বড় বড় বিনিয়োগকারী এখন “ওয়াচ অ্যান্ড সি” মুডে আছে। তারা ভাবছে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।
আরও খবর
সবচেয়ে অশুভ লক্ষণ হলো আস্থার সংকট। অর্থনীতি ৭০% নির্ভর করে মানুষের আস্থার উপর। ব্যবসায়ী যখন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ঘরে রাখে, প্রবাসী যখন বৈধ পথে রেমিট্যান্স না পাঠায়, বিদেশি যখন বিনিয়োগ বন্ধ রাখে – তখন বুঝতে হবে রোগটা গভীরে।
গত সরকারের সময়ে আমরা মেগা প্রজেক্ট দেখেছি। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, কর্ণফুলী টানেল। এগুলো অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছিল। কর্মসংস্থান হয়েছিল। এখন সেই ধারাবাহিকতা নেই। বরং উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ, নতুন বিনিয়োগ নেই। ফলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমছে, বেকারত্ব বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাত খাটবে না বারংবার! (Bangladesh Economy)
আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাত দিয়ে সবকিছু চালানো যাবে না। ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলার সংকট বিশ্বব্যাপী আছে। কিন্তু ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ঠিকই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কারণ তাদের নীতিনির্ধারকরা সময়মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আমাদের এখানে সিদ্ধান্তহীনতা আর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ছবি দেখা যাচ্ছে।
একটা কথা পরিষ্কার – অর্থনীতি রাজনীতি থেকে আলাদা না। রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনের শাসনের অভাব, দুর্নীতি – এগুলো সরাসরি অর্থনীতিতে আঘাত করে। যখন বিনিয়োগকারীরা দেখে দেশে মব সন্ত্রাসী হচ্ছে, ব্যাংক লুট হচ্ছে, বিচার নেই – তখন তারা পালাবে এটাই স্বাভাবিক।
তাহলে কি উপায় নেই? আছে। কিন্তু তার জন্য দরকার দায়িত্বশীল নেতৃত্ব। দরকার অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ শোনা। দরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে দেশের স্বার্থকে আগে রাখা।
শেখ হাসিনার সরকার ১৬ বছরে যে অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল, সেটা ধরে রাখতে হবে। রিজার্ভ বাড়াতে হবে, রপ্তানি বাড়াতে হবে, দুর্নীতি কমাতে হবে। নইলে এই “অশুভ লক্ষণ” গুলোই একদিন বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।
দেশটা আমাদের সবার। অর্থনীতি অসুস্থ হলে কেউ ভালো থাকবে না। সময় থাকতে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করতে হবে। নইলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/08/31/india-uzbekistan/


