Bengal Liberty
ক্ষমতা হারিয়েও হার মানতে নারাজ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বর্তমান রাজ্য সরকার, ছাত্রদের উপর অত্যাচার ও নিরাপত্তা সম্পর্কে কটাক্ষের সুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। তাঁর দাবি, বর্তমান রাজ্যে নিরাপত্তার অভাব, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর হামলা চলছে। তাঁর মতে, যাদবপুর, বারাসাত, প্রেসিডেন্সির পড়ুয়াদের উপর হামলা চলছে।
লাইভে বিজেপি কটাক্ষ করে মমতার অভিযোগ, ” বেআইনি কাজ করতে করতে আপনারা বাংলায় লুম্ফেন ভর্তি করে দিয়েছেন। চার মাসে হানিমুন মানিমুনে পরিণত হয়েছে। ”

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের উপর হামলা Mamata Banerjee
লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ” বর্তমান রাজ্যে ছাত্রছাত্রীরা সুরক্ষিত নয়। তাদের উপর হামলা চলছে।” যাদবপুর, বারাসাত, প্রেসিডেন্সির ঘটনা টেনে তিনি জানান, ” বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। জোর করে লুট চলছে বাংলায়।” বিগত কিছুদিন ধরে যাদবপুরের ঘটনা প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ” গেরোর নামে হেরো দল যাদবপুরে হামলা চালাচ্ছে।” তার মতে, রাজ্য সরকার আজ ঔদ্ধত্য ও অহংকারের শীর্ষে পৌঁছেছে।
আরও খবর

উল্লেখ্য, বিগত পনেরো বছরে একাধিক বার যাদবপুরের ঘটনার সাক্ষী ছিল রাজ্য। শিক্ষামন্ত্রীর কনভয়তে হামলা, জেএনইউ হামলার প্রতিবাদী মিছিলে লাঠিচার্জ, ছাত্রমৃত্যু। বারাসাত, প্রেসিডেন্সি ইনিভার্সিটিও তার ব্যতিক্রম ছিল না। ক্যাম্পাসে ভাঙচুর, মুখ্যমন্ত্রীকে কালো পতাকা, বারাসাত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষ, বাক-স্বাধীনতার বিতর্ক নিয়ে উত্তাল সহ একাধিক ঘটনা শিরোনামে আসে। একাধিক বার হামলার শিকার হতে হয়েছিল শিক্ষার্থীদের।

” আমি কোন সিকিউরিটি পাই না “
নিরাপত্তা দিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, ” মুখেই বলে জেড প্লাস সিকিউরিটি, আসলে দেওয়া হয় না। আমার কাছে একটাও সিকিউরিটি নেই। মানুষকে মিথ্যে বোঝানো হচ্ছে।” তাঁর মতে, তার বাড়ি থেকেও সকল নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তা সত্ত্বেও সমাজ মাধ্যমে সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়ান একই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিলেন। রাতের অন্ধকারে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তার বিষয়ক মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, তোপ কটাক্ষ করেছিলেন বিজেপি সরকারের দিকে।
পুলিশকে কটাক্ষ মমতার
রাজ্য পুলিশের ভূমিকাকে তীব্র সমালোচনা করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানান, “পুলিশ এখন এমন ভাব করছে যেন তারা ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না! তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে চরম পরিণতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বহু নির্দোষ মানুষের বিরুদ্ধে কোনও কেস না থাকা সত্ত্বেও বেআইনিভাবে ভুয়ো কেস দিয়ে আটক করা হচ্ছে।” অথচবিগত পনেরো বছরের পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতের পুতুল ছিল রাজ্য পুলিশ। তার দাপটে, পুলিশের শীর্ষ নেতৃত্বরাও মাথা নামাতে বাধ্য ছিল। বর্তমানে, সেই রাজ্যপুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আপত্তি প্রকাশ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।


